আজকাল ওয়েবডেস্ক: সন্ধ্যায় প্রচণ্ড বৃষ্টি, তার মধ্যেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ও নেতাজি ইন্ডোরের সামনে প্রবল উত্তেজনা! উত্তর কলকাতার স্ট্রং-রুম এই নেতাজি ইন্ডোরের মধ্যে অবস্থিত এই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। সেখানেই ইভিএম-এর সুরক্ষা নেই, স্ট্রং রুমে বহিরাগতদের আনাগোনার অভিযোগ তুলে সরব হন তৃণমূলের দুই প্রার্থী কুণাল ঘঙোষ ও শশী পাঁজা। ধর্নায় বসে পড়েন তাঁরা। ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী, সমর্থকও। এর মাঝেই সেখানে চলে আসেন বিজেপির দুই প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক। এরপরই পরিস্থিতি জটিল হয়। দুই দলের কর্মী, সমর্থকরা একে অপরে ইঙ্গিত করে 'জয় বাংলা' ও 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দিতে শুরু করে। বেঁধে যায় বচসা।
মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী, তাপস রায় অভিযোগ- "এভাবে স্ট্রংরুমের বাইরে, এত লোক নিয়ে জমায়েত করা অনুচিত। তৃণমূল যদি সেই নিয়ম না মেলে স্ট্রং রুমের বাইরে এভাবে জমায়েত করে, তাহলে বিজেপি ও সমান সংখ্যক কর্মী সমর্থকদের নিয়ে স্ট্রং রুমের বাইরে জমায়েত করবে।"
এরপই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সরিয়ে দেওয়া হয় জমায়েত। গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় গোটা এলাকা। সমস্ত দলের কর্মী সমর্থকদের বার করে দেওয়া হয় ওই চত্বর থেকে। এলাকায় নিরাপত্তা বাড়নো হয়।
রাত বাড়তেই কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা নেতাজি ইন্ডোরের সামনে থেকে বেরিয়ে যান। কুণাল ঘোষ জানান, তাঁদের স্ট্রং রুমে কড়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কমিশন ও পুলিশ।
নেতাজি ইন্ডোরের ঘটনা জানতে পেরেই বড় সিদ্ধান্ত নেন মমতা ব্যানার্জি। বৃষ্টির মধ্যেই তিনি প্রথমে যান ভবানীপুর বিধানসভার স্ট্রং রুম শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। সেখান থেকে তৃণমূল নেত্রীর যাওয়ার কথা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। আগেই তৃণমূল নেত্রী কর্মীদের উদ্দেশ করে বলেছেন, "কাউন্টিংকে যাতে সবাই ভালভাবে পাহারা দেয় আজ থেকেই, আমি সেটা বলব। দরকার হলে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। সব তৃণমূল প্রার্থীদের বলব, নিজেরা পাহারা দিন। দিনের বেলায় কর্মীদের রাখুন, রাতের বেলায় নিজেরা পাহারায় থাকুন। আমি যদি পাহারা দিতে পারি, আপনারাও পাহারা দিন। স্টোর থেকে কাউন্টিং হলে নিয়ে যাওয়ার সময় ইভিএম মেশিন বদলের পরিকল্পনা করেছে, নজর রাখতে হবে। অবহেলা করবেন না।" মমতার আরও নির্দেশ, তিনি না জানানো পর্যন্ত দলের কোনও নেতা, কর্মী যাতে গণনা কেন্দ্র না ছাড়েন।
এ দিন কী অভিযোগ তৃণমূলের?'এক্স'-এ তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে লেখা হয়েছে, 'বাংলার গণতন্ত্র কি আজ বিপন্ন? নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর আসছে। অভিযোগ উঠছে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেই ব্যালট বক্স খোলার বেআইনি চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের একাংশ। মানুষের রায় কি তবে অন্ধকারে বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে?'
তাতে আরও লেখা হয়েছে, 'এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং জনগণের ভোট পাহারা দিতে স্টেডিয়ামের বাইরে ধরনায় বসেছেন ডঃ শশী পাঁজা এবং শ্রী কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে সরাসরি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের পথে রওনা দিয়েছেন মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষের পবিত্র রায়কে নিয়ে কোনো ছিনিমিনি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি ভোট পাহারা দেওয়া হবে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন আর বিজেপির এই অশুভ আঁতাত আমরা ভেস্তে দেবই! সজাগ থাকুন, সতর্ক থাকুন। গণতন্ত্র লুঠ হতে দেবেন না!'