• গণনাকর্মী নিয়োগে কেন্দ্রীয় কর্মী ব্যবহারে সিলমোহর আদালতের, খারিজ রিট পিটিশন
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০১ মে ২০২৬
  • ভোটগণনায় কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের কাউন্টিং সুপারভাইজার ও কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে মান্যতা দিল আদালত। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

    রায়ে আদালত স্পষ্ট জানায়, ভোটগণনা প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন নেই। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ক্ষমতার মধ্যেই এই ধরনের নিয়োগ পড়ে এবং তা বেআইনি নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডবুক বা নির্দেশিকায় কোথাও বলা নেই যে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মীদেরই এই দায়িত্বে নিয়োগ করতে হবে।

    আদালত আরও জানায়, গণনাকেন্দ্রে মাইক্রো অবজারভার, প্রার্থীদের এজেন্ট, সিসিটিভি নজরদারি-সহ একাধিক স্তরের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে কারচুপি বা পক্ষপাতের অভিযোগ এই মুহূর্তে নিছক আশঙ্কা মাত্র, তার পক্ষে কোনও প্রমাণ আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়নি।

    অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (এসিইও)-এর জারি করা নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল মামলায়। তবে আদালত জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী অর্পিত ক্ষমতার ভিত্তিতেই ওই পদাধিকারীর নির্দেশ জারি করার অধিকার রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট নির্দেশকে বেআইনি বা ক্ষমতার বাইরে বলা যাবে না।

    কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করতে পারেন—এই আশঙ্কাও মানতে নারাজ আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, গণনাকক্ষে একাধিক পক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকে। পাশাপাশি সিসিটিভি, পর্যবেক্ষক-সহ নানা নিরাপত্তা বলয় থাকায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার যথেষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

    নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ অনভিপ্রেত বলেও জানানো হয়েছে রায়ে। ভোটগণনা বা ফলাফল নিয়ে কারও নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে, তা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ১০০ ধারায় নির্বাচন পিটিশনের মাধ্যমে তোলা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে আদালত।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)