নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার রাতে তুমুল বৃষ্টি। এর ফলে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যায়। নেতাজি ইন্ডোরে ডিসিআরসি পর্যন্ত হয়ে পড়ে জলমগ্ন। ইভিএম ও নির্বাচনের অন্যান্য সামগ্রী রাখতে আসা কর্মীদের রীতিমতো ভুগতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে জল। তবে কলকাতা পুরসভার দাবি, রাতেই গাড়ি পাঠিয়ে পাম্প চালিয়ে জল নামানো হয়েছে।
কলকাতা শুধু নয়, শহরতলিতেও একই পরিস্থিতি। বৃষ্টির কারণে রাতে বাড়ি ফিরতে রীতিমতো ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে মানুষকে। শেষ দফার ভোটগ্রহণ ছিল বলে রাস্তায় বাস প্রায় চলেইনি। তার উপর বৃষ্টি পড়ায় রাস্তা ছিল প্রায় শুনশান। তবে যে মানুষদের কর্মস্থলে যেতে হয়েছে বাড়ি ফেরার পথে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। ট্রেনও চলেছে দেরিতে। তার ফলে অসংখ্য মানুষের বাড়ি ফিরতে প্রায় মাঝরাত হয়ে যায়।
তবে বুধবারের বৃষ্টি অন্যদিক দিয়ে স্বস্তিও দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা অনেকটা নেমে যায়। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রি। এটি স্বাভাবিকের তুলনায় ৭.৪ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে হয় ২০.৪ ডিগ্রি। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫.৮ ডিগ্রি কম।
রাতে তুমুল বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যায়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম জলে থই থই অবস্থা। জুতো খুলে, প্যান্ট গুটিয়ে ঢুকতে হয় নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের। তারপর ইভিএম ও বাদবাকি যন্ত্রপাতি ও অনান্য সামগ্রী রেখে বাড়ি ফিরতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে তাঁদের।
রাতে সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে হাওড়ার আমতায়। সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৯৭.১ মিমি। কলকাতার আলিপুরে ৫৪.২ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সল্টলেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৬২.৮ মিমি। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ৫৯.৮ মিমি, দমদমে ৫৪.১ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। কলকাতার পাশাপাশি শহরতলিতেও প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। তুমুল বৃষ্টির জেরে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট, যোধপুর পার্ক সহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সেই জল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জমে থাকেনি বলে পুরসভার দাবি। সকালের আগেই জল নেমে গিয়েছে। কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, বেশ কয়েকটি রাস্তায় জল জমে গিয়েছিল। প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি রাস্তা, বিশেষ করে দমদম, আমহার্স্ট স্ট্রিট, তারাতলা সহ বিভিন্ন জায়গায় যেখানে আমাদের কাজ চলছে, সেখানে নিকাশি লাইন আটকে রয়েছে। সেখানেই জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। নেতাজি ইন্ডোরে গাড়ি পাঠিয়ে পাম্প চালিয়ে রাতেই জল নামানো হয়। তবে শহরের ভিতরে অলিগলি ছাড়া বড়ো রাস্তায় কোথাও সেভাবে জল জমে ছিল না। রাতেই নামানো গিয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা মিলিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেও ফের তুমুল বৃষ্টি শুরু হয় কলকাতা, হাওড়া সহ দুই ২৪ পরগনায়। সঙ্গে ছিল ঘন ঘন বাজ ও দমকা হাওয়া। ভারী বৃষ্টিতে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় জল জমে যায়। বিশেষ করে উত্তর এবং মধ্য কলকাতার একাধিক অঞ্চলে দীর্ঘক্ষণ জল দাঁড়িয়েছিল। সকালের মধ্যে অবশ্য জল নেমে যায়।