গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমল, কমিশনের পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শীঘ্রই
বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: প্রথমে ১০৮ থেকে কমিয়ে ৮৭ করা হয়েছিল। এবার রাজ্যে ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন! বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোট গোনা হবে ৭৭টি কেন্দ্রে।
এদিকে, দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই বিভিন্ন বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে। তবে কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন হবে, তা স্ক্রুটিনি করে দেখা হচ্ছে। আর সেই স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ফোন করে এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলতা, মগরাহাট এবং সোনারপুর এলাকায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে স্ক্রুটিনিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে সুব্রতবাবুকে। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরেই ডায়মন্ডহারবারে গিয়েছেন তিনি। যে ৭৭টি বুথে পুননির্বাচনের আবেদন জানানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, ফলতা কেন্দ্রের ৩২টি, ডায়মন্ডহারবারের ২৯টি, বজবজের ৩টি এবং মগরাহাট পূর্ব কেন্দ্রের ১৩টি। সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, যদি পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেক্ষেত্রে আজ শুক্রবার সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। ভোট হতে পারে তারপরের দিন শনিবার। সবটাই ঠিক করবে কমিশন। পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইভিএম, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে নিরাপত্তায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সংখ্যা আর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভোটগণনা হয়েছিল ৯০টি কেন্দ্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১০৮। কিন্তু১৭ এপ্রিল কমিশনের তরফে তা কমিয়ে ৮৭ করা হয়। এবার তা আরও কমিয়ে ৭৭ করা হয়েছে। ভোটগণনার প্রাকমুহূর্তে গণনাকেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ৭৭-এর চেয়েও কমতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। তার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রে বেআইনি বা অবৈধ প্রবেশ রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হল। গণনাকেন্দ্রে যাঁদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, তাঁদের পরিচয়পত্রের সঙ্গে থাকবে কিউআর কোড। ওই কোড স্ক্যান করেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া অনুমতিপত্র যাচাই করা হবে।
কমিশন জানিয়েছে, গনণাকেন্দ্রে ঢোকার আগে ত্রিস্তরীয় যাচাইকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে ভোটকর্মীদের। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে গণনাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে একবার সংশ্লিষ্ট ভোটকর্মীর আইডি কার্ড পরীক্ষা করা হবে। গণনাকক্ষে যাওয়ার পথে আবার একবার ওই ভোটকর্মীর আইডি কার্ড যাচাই করবেন নিরাপত্তাকর্মীরা। শেষবার গণনাকক্ষে ঢোকার মুখে পরীক্ষা হবে। সেখানেই আইডি কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করাতে হবে ভোটকর্মীদের।
এ-ধরনের আইডি কার্ডের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তাছাড়া আর কেউ গণনাকক্ষে ঢুকতে পারবেন না। তবে গণনাকে কেন্দ্র করেও মামলা দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে। গণনাকেন্দ্র সুপারভাইজার হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী কেন এবং গণনাকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন কেন করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে দুটি মামলা দায়ের করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য।