আপত্তি জানাল না ইডি, ভোট মিটতেই জামিন আইপ্যাক কর্তার
বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট শেষ, ডিউটি শেষ! এই একটি বাক্যেই এবার ইডিকে ব্যাখ্যা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার সর্বশেষ প্রমাণ মিলল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে। বৃহস্পতিবার জামিন পেয়ে গেলেন আইপ্যাক কর্তা ভিনেশ চান্ডেল। সবচেয়ে বড়ো কথা, তাঁর জামিনের বিষয়ে আদালতে কোনো আপত্তিই জানাল না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এতদিন ধরে যাঁকে নিয়ে প্রবল উদ্বেগ, ছাড়া পেলে তিনি তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন বলে কোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ—সেই ভিনেশ চান্ডেল আর ‘থ্রেট’ রইলেন না তদন্তের ক্ষেত্রে। আইপ্যাক ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে এদিন একটি শব্দও খরচ করল না কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
১৩ এপ্রিল রাতে গ্রেপ্তার হন ভিনেশ চ্যান্ডেল। রাতভর শুনানিতে ইডি আদালতে সেবার দাবি তুলেছিল, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ ও বিভিন্ন হিসাব বহির্ভূত লেনদেন সামনে এসেছে। টাকা হাওলা করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ আছে। তাই তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় কোর্ট। কিন্তু ভোটের আগেই কেন ভিনেশ গ্রেপ্তার? এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। সাফ অভিযোগ ওঠে, বহু বিজেপি বিরোধী দলের ভোট কুশলী সংস্থা হিসাবে কাজ করে বলেই আইপ্যাকের বিরুদ্ধে এই ‘পদক্ষেপ’। তৃণমূলের কটাক্ষ ছিল, ভোটের আগে আসলে মোদি-শাহের দেওয়া হোমওয়ার্ক করছে ইডি। অথচ, ১০ দিন পর তাঁকে আদালতে আবার হাজির করানো হলে এজেন্সি কিন্তু প্রমাণ দিতে পারল না যে, ভিনেশ প্রসিডস অব ক্রাইমের টাকা পেয়েছেন। হাওলা লেনদেনের পক্ষেও নথি পেশ করেনি এজেন্সি।
মঙ্গলবার, অর্থাৎ ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভিনেশ আগাম জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আদালতকে জানান, তাঁর মা ডিমনেশিয়ায় আক্রান্ত। দেখার কেউ নেই। সেখানেও ইডি জামিনের বিরোধিতা করে তথ্য-প্রমাণ নষ্টের যুক্তি খাড়া করেছিল। বৃহস্পতিবার হেফাজত শেষে ভিনেশকে আবার আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁর আইনজীবী এদিন জামিনের সওয়ালে বলেন, ‘আইপ্যাকের এই ডিরেক্টরেরের বিরুদ্ধে লেনদেনের নথি ইডি দেখাতে পারেনি। তিনি প্রসিডস অব ক্রাইমের টাকা পেয়েছেন, তারও প্রমাণ পায়নি।’ ইডির আইনজীবী কিন্তু এদিন জামিনের বিরোধিতায় যাননি। ভিনেশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও কোনো নথি আদালতে হাজির করেননি। শুধুমাত্র জামিন দিলে কিছু শর্ত আরোপের কথা বলেন। তারপরই বিচারক শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন ভিনেশেকে। শর্ত হিসাবে বলা হয়েছে, ভিনেশ তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তাঁকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। কোথায় যাচ্ছেন, তদন্তকারীদের জানাতে হবে। এলাকা ছাড়তে পারবেন না। সাক্ষ্যপ্রমাণ বিকৃত করা এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করা থেকে বিরত থাকতে হবে।