• আমি না বলা পর্যন্ত গণনাকেন্দ্র ছাড়বেন না, নির্দেশ নেত্রীর
    বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আর চারদিনের লড়াই। কর্তব্যে অবিচল থাকুন। স্ট্রং রুম পাহারা থেকে গণনা—সবদিকে কড়া নজর রাখুন। কোনো ধরনের অপচেষ্টা হচ্ছে কি না, প্রতি মুহূর্তে খোঁজ রাখুন।’ ভোট মেটার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দলের কর্মীদের মধ্যে এই নির্দেশ পৌঁছে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই শেষ নয়, তিনি নিজেও পৌঁছে যান ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। গভীর রাত পর্যন্ত স্ট্রংরুম আগলে পাহারা দিয়েছেন তিনি। প্রায় ঘণ্টা চারেক সেখানে কাটানোর পর বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘ইভিএম ট্যাম্পারিং করার চেষ্টা হয়েছিল। খবর পেয়েই আমি এসেছিলাম। আমাকে তো ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছিল না।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘পোস্টাল ব্যালট বারাসাতে যাবে, কেন যাবে? এভাবে একতরফা করা যায় না।’ তৃণমূল নেত্রী যখন ভিতরে ছিলেন, তখন বাইরে কয়েকজনকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এনিয়ে মমতা বলেন, ‘ওরা গুজরাত থেকে এসেছে। এখানকার নয়। এখন রাজ্য পুলিশ আমাদের অধীনে কাজ করছে না। যারা পুলিশকে চমকাচ্ছে, সাসপেন্ড করার হুমকি দিচ্ছে, তারা কিছু করতে পারবে না।’

    এক্সিট পোল যাই দেখাক, ‘শোচনীয় পরাজয়ে’র আঁচ বিজেপি পেয়েছে বলেই খবর তৃণমূলের শীর্ষ মহলে। আর তাই তারা গণনার দিন ও তার আগে ‘কিছু ষড়যন্ত্র’ করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ঘটনাচক্রে বৃহস্পতিবারই তৃণমূল অভিযোগ করেছে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি স্ট্রংরুমের ভিতরে ঢুকে কিছু করছিলেন। সেই সময় কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হাজির ছিলেন না। একইভাবে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে অচেনা মুখের আনাগোনার ছবি ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরায়। সেই ছবি তুলে ধরে ক্যামেরার পুরো রেকর্ডিং প্রকাশ্যে আনার দাবি করেছে তৃণমূল। ভিডিওবার্তায় তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়েছেন, ‘স্ট্রংরুম ও কাউন্টিং হলে কড়া পাহারা দিতে হবে। আমিও আমার এলাকায় পাহারায় থাকব। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের দায়িত্বে থাকা দলের প্রত্যেক কর্মীকে বলব, পাহারা দিন। দিনে ও রাতে টিম ভাগ করে নিন। প্রার্থীরাও দায়িত্ব নিন। আমি যদি পাহারা দিতে পারি, তাহলে দলের বাকিরাও পারবেন।’ তৃণমূল নেত্রীর আশঙ্কা, স্ট্রংরুম থেকে গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় তা বদল করা হতে পারে। তাই রাস্তাতেও কড়া নজর রাখতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘গণনা শুরু হওয়ার অনেক আগেই কাউন্টিং হলে পৌঁছে যাবেন।’ তাঁর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর নির্দেশ, ‘৪ তারিখ আমি যতক্ষণ না সাংবাদিক সম্মেলন করে বলছি, ততক্ষণ কেউ নিজের কাউন্টিং টেবল ছাড়বেন না। বাথরুম যেতে হলে বা খেতে গেলে অন্য যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন। আর দু’মিনিটের মধ্যে ফিরে আসবেন। কেউ কোনো টাকার প্রলোভনে ভুলবেন না। কেউ ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেও এলাকা ছাড়বেন না।’
  • Link to this news (বর্তমান)