ভোট ‘অক্ষত’ রাখতে কড়া পাহারা তৃণমূলের, সব স্ট্রংরুমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি
বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মানুষের রায়দান শেষ। ভোটকেন্দ্র থেকে ইভিএম মেশিন ও পোস্টাল ব্যালট চলে গিয়েছে স্ট্রং রুমে। গণনা হবে ৪ মে। কিন্তু, মাঝের চারদিন উৎকণ্ঠার শেষ নেই প্রার্থীমহলে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে স্ট্রং রুম পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে অস্বচ্ছতার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল বুধবার। বৃহস্পতিবার নতুন দুশ্চিন্তা উঁকি দিচ্ছে তৃণমূলের অন্দরমহলে। স্ট্রং রুমেও ইভিএমে কারচুপি হতে পারে এই আশঙ্কা করছে রাজ্যের শাসক দল। এই আশঙ্কা থেকেই ভোট গণনা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাই স্ট্রংরুমের বাইরে কড়া পাহারায় বসছে তৃণমূল।
এদিন সন্ধ্যায় এই সংক্রান্ত অভিযোগও উঠল। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ১৩ সিসি ক্যামেরার ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেল, বন্ধ স্ট্রং রুমে ঘোরাফেরা করছেন অজ্ঞাতপরিচয়ের এক মহিলা। বৃহস্পতিবার রাতে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে স্ট্রং রুমের বাইরে প্রহরায় বসেন বেলেঘাটা ও শ্যামপুকুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। কলকাতায় মোট ৫টি ভোট গণনাকেন্দ্র রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্ট্রং রুমগুলির নিরাপত্তার দায়িত্বে বিরাট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে কমিশন। তাঁদের জোড়া চোখের নজর এড়িয়ে কীভাবে ঢুকলেন অজ্ঞাতপরিচয়ের ওই মহিলা? তা নিয়েই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমার কাছে একাধিক তথ্য এসেছে, যেখানে বিভিন্ন স্ট্রং রুমে ইভিএম কিংবা ব্যালট বাক্সে কারচুপির ছক কষছে ওরা। তাই সতর্ক থাকতে হবে। ইভিএম বাইরে প্রার্থী কিংবা এজেন্টদের প্রহরার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী। রাতে নিজেই শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভঃ হাইস্কুলে হাজির হন। সেখানেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রং রুম। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন মমতা। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীও মোতায়েন করা হয় শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের বাইরে।
তৃণমূলের অভিযোগের পর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যান কলকাতা উত্তরের জেলা নির্বাচনি আধিকারিক স্মিতা পান্ডে। একইসঙ্গে, সব কেন্দ্রে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের পাশাপাশি নির্দল প্রার্থীদের স্ট্রং রুমের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি দেখানো হয় তাঁদের। এবিষয়ে রাতে রাজ্যেjর মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, নিয়মমাফিকই সমস্ত প্রক্রিয়া চলেছে। কারচুপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যখন টানটান উত্তেজনা, তখনই কসবা বিধানসভা থেকে খবর আসে, গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামের স্ট্রং রুমের তার খুলে যাওয়ায় সিসি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়েছে। সেখানে কী ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে খোঁজখবর নেন কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাভেদ খান। রাতেই গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে যান তৃণমূল প্রার্থীর এজেন্ট। ১৫-২০ মিনিট পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বেহালা পূর্ব ও পশ্চিমের বিধানসভা কেন্দ্রে স্ট্রং রুম করা হয়েছে বিবেকানন্দ কলেজে। রাতেই সেখানে প্রহরায় যায় তৃণমূল।
কলকাতা উত্তরের ৭টি বিধানসভারই গণনা হবে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার ৪টি বিধানসভা প্রতিটির জন্য পৃথক গণনাকেন্দ্র রয়েছে। সবকটিতেই কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি কলকাতা পুলিশকেও মোতায়েন করা হয়েছে। লালবাজার জানিয়েছে, ৪ হাজার পুলিশ কর্মীকে স্ট্রং রুম পাহারায় রাখা হয়েছে।