• আত্মবিশ্বাস নয়, গণনাকেন্দ্রে নিজস্ব নজরদারিতে বাড়তি জোর তৃণমূলের
    বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, রাজনৈতিক লড়াইয়ের উত্তাপ এতটুকু কমেনি উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন কেন্দ্রে। বরং সময় যত এগচ্ছে, ততই বাড়ছে সতর্কতা ও স্নায়ুচাপ। এখন গোটা ফোকাস ঘুরে গিয়েছে গণনা কেন্দ্রের দিকে। প্রার্থীরা কেউই এলাকা ছাড়ছেন না। বাড়িতে থাকলেও দিনে অন্তত দু’-তিনবার করে গণনা কেন্দ্রের আশপাশে টহল দিচ্ছেন। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং প্রতিটি আপডেট খুঁটিয়ে দেখছেন। এই মুহূর্তে তাঁদের সবচেয়ে বড়ো দায়িত্ব হল গণনা কেন্দ্র আগলে রাখা এবং যে কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা আগেভাগে ঠেকানো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ভোটের দিনের থেকেও বেশি স্পর্শকাতর সময় হল, ভোটের পর থেকে গণনা পর্যন্ত অপেক্ষাপর্ব। তাই, সংগঠনকে চাঙা রাখা, কর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সতর্ক থাকা— এই তিনদিকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

    তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরই বুঝে গিয়েছে, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালাতে না পারলে গণনার দিনে চমক আসতে পারে। অশোকনগরে তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী নিয়মিত কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভোট ভালো হলেও এখন আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, গণনা কেন্দ্রের আশপাশে নজরদারি বাড়াতে এবং প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখতে। বারাসতের বিজেপি প্রার্থী শংকর চট্টোপাধ্যায়ও একইভাবে সংগঠনকে সক্রিয় রেখেছেন। কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে তিনি নিশ্চিত করতে চাইছেন, যাতে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে। হাবড়ার তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আত্মবিশ্বাসী হলেও সতর্ক তিনি। কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে তিনি পরিস্থিতির উপর শেষ পর্যন্ত নজর রাখতে বলেছেন। বাগদার তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর এখনও মাঠেই সক্রিয় রয়েছেন। ছোটো ছোটো বৈঠকের মাধ্যমে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি প্রতিটি আপডেট নিচ্ছেন। তিনিও কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাঁর কাছে এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে এক মুহূর্তের ঢিলেমি বিপদ ডেকে আনতে পারে। 

    মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ বলছেন, গণনা কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছেন কর্মীরা। বনগাঁ উত্তরে বিশ্বজিৎ দাস সংগঠনের উপরই ভরসা রাখছেন। কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তিনি নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন, যাতে গণনার দিন কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়। হিঙ্গলগঞ্জে আনন্দ সরকারও একইভাবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর মতে, এই সময় সবচেয়ে বেশি নজরদারির প্রয়োজন, তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে হবে কর্মীদের। সব মিলিয়ে স্পষ্ট, বোর্ডে খেলা শেষ হলেও মাঠে লড়াই এখনও জারি। আত্মবিশ্বাসী সব পক্ষই, কিন্তু কেউই সেই আত্মবিশ্বাসের উপর পুরোপুরি ভরসা করতে চাইছেন না। বরং শেষ পর্যন্ত সজাগ থেকে, প্রতিটি মুহূর্তকে গুরুত্ব দিয়ে এগতেই চাইছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)