• কড়া নিরাপত্তায় স্ট্রংরুমে এখন বন্দি জনতার রায়, প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক সেরেছেন অবজার্ভাররা
    বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই উত্তর ২৪ পরগনায় শুরু হয়েছে ইভিএম সংরক্ষণ এবং ভোটগণনার প্রস্তুতি। জেলার ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের সব ইভিএম ও ভিভিপ্যাট ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে ডিসিআরসি থেকে কড়া নিরাপত্তায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে স্ট্রং রুমে। এখন সেই স্ট্রং রুমগুলিতেই বন্দি রয়েছে জনতার রায়, যা প্রকাশ পাবে গণনার দিন।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার উত্তর ২৪ পরগনায় ভোটগণনার জন্য যে পাঁচটি কেন্দ্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল: বারাসত, বনগাঁ, বসিরহাট, বিধাননগর এবং বারাকপুর। প্রতিটি এলাকায় একটি করে গণনাকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ভোটগণনা হবে ধাপে ধাপে। এখন এই পাঁচটি কেন্দ্রকেই ঘিরে রয়েছে কড়া নিরাপত্তার বলয়। প্রশাসনের লক্ষ্য, যেন কোনোভাবেই ভোট-পরবর্তী প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত না ঘটে।

    স্ট্রং রুমগুলির নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে বহুস্তরীয় ব্যবস্থা। প্রতিটি স্ট্রং রুমের গেট বিশেষ গালা দিয়ে সিল করা হয়েছে। সেই সিল নিয়মিত পরীক্ষা করছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ২৪ ঘণ্টা তাঁরা নজর রাখছেন পুরো এলাকায়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেক্টর অফিসাররা এসে খতিয়ে দেখছেন পরিস্থিতি। প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তার প্রতিটি স্তর এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে, কোনোরকম অনধিকার প্রবেশ বা কারচুপির সুযোগ না থাকে। গণনাকেন্দ্র চত্বরেও জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। মূল ফটক থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো অবাঞ্ছিত ব্যক্তির প্রবেশ বা জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র বৈধ পরিচয়পত্র থাকলেই প্রবেশের অনুমতি মিলছে। প্রার্থীদের কাউন্টিং এজেন্ট এবং মুখ্য পোলিং এজেন্টরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সিসিটিভি মনিটরিং ইউনিট পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারছেন। ফলে তাঁরা সরাসরি নজর রাখতে পারছেন স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। এটা স্বচ্ছতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

    ভোটগ্রহণের পর ইভিএমগুলি প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ডিসিআরসি-তে। সেখানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেগুলি সরাসরি স্ট্রং রুমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত এই ইভিএমগুলি কড়া পাহারায় থাকবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স্ট্রং রুম সংলগ্ন এলাকায় সিসিক্যামেরার নজরদারি চালু রয়েছে এবং প্রতিটি গতিবিধি নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর শহর বারাসতের গভর্নমেন্ট কলেজে হাবড়া, অশোকনগর ও দেগঙ্গার ইভিএম ও ভিভি প্যাট সংরক্ষণ করা আছে। মধ্যমগ্রাম ও আমডাঙার ইভিএম আছে বারাসত গভর্নমেন্ট স্কুলে। দু’টি কেন্দ্রই পাশাপাশি। বসিরহাটের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা হবে বসিরহাট পলিটেকনিক কলেজে। আর বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভার গণনা হবে বনগাঁ দীনবন্ধু কলেজে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত দলের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন অবজার্ভাররা। শোনা হয়েছে প্রত্যেকের মতামত।

    এদিকে, গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে ততই জোরদার হচ্ছে প্রস্তুতি। ভোটগণনার সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন ‘মাইক্রো অবজারভার’রা। তাঁদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালট, ইভিএম এবং ভিভিপ্যাটের গণনা ও স্ক্রুটিনি সম্পন্ন হবে। প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গণনা কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করে এই পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। রাজনৈতিক দিক থেকেও উত্তর ২৪ পরগনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা। দীর্ঘদিন ধরেই এই জেলাকে শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে দেখা হয়। গত বিধানসভা নির্বাচনেও সেই প্রভাব স্পষ্ট ছিল। সব মিলিয়ে এবার ভোটের ফল কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
  • Link to this news (বর্তমান)