উত্তর শহরতলিতে সবথেকে বেশি ভোট খড়দহে, জয়ের ব্যবধান নিয়ে চর্চা তৃণমূলে
বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: উত্তর শহরতলির মধ্যে সব থেকে বেশি ভোট পড়েছে খড়দহে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ভোট পড়েছে প্রায় ৯৩.০২ শতাংশ। শহরতলির কেন্দ্রগুলির মধ্যে সব থেকে ভোট পড়েছে বরানগরে (৮৮.৫৯ শতাংশ)। ভোট শেষ হতে না হতেই ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে সম্ভাব্য ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের মধ্যে আতঙ্কের চোরাস্রোত বইছে। ২০২১ সালের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছে বিজেপি। তেমন পরিস্থিতি হলে তাদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছেন নেতৃত্ব।
ভোটের দিন উত্তর শহরতলি জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চূড়ান্ত দাপাদাপির ছবি দেখেছেন শহরবাসী। বৃহস্পতিবার তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলেছে। তারা ভোটপর্বকে আতঙ্কের পর্যায়ে নামিয়ে আনায় সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। তার উপর ভোটের আগের রাতে ও ভোটের দিন তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নানা পদক্ষেপ বিরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বুধবার খড়দহ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রসেনজিৎ সাহার বাড়ি ঘিরে রেখেছিল বিশাল বাহিনী। কোথাও বুথ ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছিল। বেধড়ক মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে ওইদিন দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত। খড়দহ শহর তৃণমূলের সভাপতি সুকণ্ঠ বণিক বলেন, ভারী বুটের আওয়াজ ও বন্দুকের নল শেষ কথা বলে না। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা। বিজেপি তথা কমিশন চেয়েছিল আতঙ্ক তৈরি করে মানুষকে গৃহবন্দি করে রাখা। কিন্তু মানুষ শেষপর্যন্ত রুখে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। আমাদের জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
ভোট পড়ার হারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে ভোট পড়েছে ৯২.২৬ শতাংশ। এছাড়াও পানিহাটিতে ৯১.৪৮ শতাংশ, কামারহাটিতে ৯০.০১ শতাংশ, দমদমে ৯০.০২ শতাংশ ভোট পড়েছে। শহরতলির মধ্যে তুলনায় কম ভোট পড়েছে বরানগরে। ভোটদানের হার ৮৮.৫৯ শতাংশ। বরানগরে তৃণমূল নেতা রামকৃষ্ণ পাল বলেন, প্রথম থেকে পরিকল্পনা করেই ধীরগতিতে ভোট করানো হয়েছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৭২ নম্বর পার্টে একটি ইভিএম পাঁচবার খারাপ হয়েছিল। এতসব চক্রান্ত ব্যর্থ করে মানুষ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখেছেন। বরানগরে তৃণমূল প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। তৃণমূল শিবির যখন জয়ের স্বপ্নে মশগুল, তখন প্রতিদ্বন্দ্বী গেরুয়া শিবির চরম উদ্বিগ্নতায় দিন কাটিয়েছে। বিজেপির অনুপ্রেরণায় তৈরি ‘এক্সিট পোল’ও তাদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যর্থ। উত্তর শহরতলির একাধিক মণ্ডল অফিসে একটাই আলোচনা, ২০২১ সালের মতো ফলাফল হলে পরিস্থিতি কী হবে!