হুগলির ১৪ আসনেই ফুটবে ঘাসফুল, ভোট-সমীক্ষার পর দৃঢ় বিশ্বাস তৃণমূলের
বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বুধবার ভোট মিটে যাওয়ার পরেই হিসাব কষতে বসেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার সকালেও হয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটের কাঁটাছেঁড়া। তবে শেষ পর্যন্ত হুগলির ১৪টি আসনে (আরামবাগ মহকুমা বাদে) পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেতৃত্বের নজরে পড়েনি। ঘাসফুল শিবিরের ভোট বিশ্লেষকদের দাবি, ১৪টি আসনেই ঘাসফুল ফুটবে। ২০২১ সালের ফল ধরে রাখবে তৃণমূল। পাশাপাশি, ভোট খুব ভালো হয়েছে। তাতে বেশকিছু আসনে ব্যবধানও বাড়বে। নেতৃত্বের দাবি, চণ্ডীতলা থেকে চুঁচুড়া, চন্দননগর থেকে তারকেশ্বর, কোনো আসনেই বিরোধীদের তোলা কোনো ইস্যু ধোপে টেকেনি। সেকারণেই ঘাসফুলের সাফল্য অব্যাবহত থাকবে।
পাশাপাশি প্রবীণ নেতাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের জনমুখী প্রকল্পের সাফল্যই এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভোটের দিন দেখা গিয়েছে, মানুষ সেইসব ভাবনার নিরিখেই ভোট দিয়েছেন। দলের অন্দরের সমীক্ষা থেকেও সরকারি প্রকল্পের প্রতি আস্থার জেরে তৃণমূলের প্রতি ভরসা পরিষ্কার হয়েছে। যদিও এই তত্ত্ব মানতে নারাজ বিজেপি। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, সর্বত্র একটা ইস্যুতে ভোট হয়েছে। তা হল তৃণমূলের অপশাসন ও অনিয়ম। সেই কারণেই বদলের তীব্র প্রবাহ বয়ে গিয়েছে। তাতে বিজেপির ফল ভালো হবে। বামেদের ফলও ভালো হবে বলে দাবি করেছে সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, মানুষ ভয় না পেয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। তাতেই বামেদের সাফল্যের দরজা খুলে গিয়েছে। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ভোট এজেন্ট থেকে শুরু করে বুথ কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছি। এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণ সহ একাধিক ধাপে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চর্চা হয়েছে। চণ্ডীতলা থেকে তারেকশ্বর পর্যন্ত ১৪টি আসনেই আমরা জিতব। কয়েকটি আসনে গতবারের থেকে ব্যবধান বাড়বে। মানুষ তৃণমূল সরকারের জনদরদী প্রকল্পের নিরিখে ভোট দিয়েছেন। ফলে, বাম এবং বিজেপি স্বপ্ন দেখতে পারে, কিন্তু সেটা পূরণ হবে না। হুগলির কোনো আসনেই পদ্ম ফুটবে না, লাল ফিরবে না।
হুগলির নাট্য পরিচালক সৃজিত ঘোষ বলেন, নাটকের সূত্রে হুগলির শহর থেকে গ্রাম, বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে আমার ভোটপর্বে যোগাযোগ হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, বিরোধীদের বদলের আওয়াজটা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে একসময় ভিক্ষা বলেছিল বিজেপি। এবার তারাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। তাতেও হিতে বিপরীত হয়েছে। গ্রামীণ পরিবারের ক্ষোভ বিজেপির ক্ষতি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, হুগলির প্রতিটি আসনের নিজস্ব সমীকরণ আছে। সর্বত্রই তৃণমূলের স্থায়ী ভোটব্যাংক আছে। যা গড়ে প্রায় ৪৮ শতাংশের কাছাকাছি। বিরোধীরা সেখানে তিনভাগে বিভক্ত ছিল। আবার বিরোধীদের তোলা সরকার বিরোধী প্রচার সার্বিকভাবে ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে সমভাবে প্রভাব ফেলেনি। তাতে সুবিধা পেয়েছে তৃণমূলই। আবার, ভোটের দিন মজবুত সংগঠনের জোরে যেভাবে ভোটারদের পাশে তৃণমূল থেকেছে, তার ধারেকাছেও বিরোধীরা যেতে পারেনি। এসব কারণেই ১৪টি আসনই ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে থাকা স্বাভাবিক।