ভোট-পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে দু’টি বাইকে টহলদারি শুরু লালবাজারের
বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের পর গোলমাল ও হিংসা ঠেকাতে কলকাতা পুলিশ রাস্তায় নামাল ১৬০টি বাইক। বিভিন্ন লেন, বাইলেনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দেবে বাইক বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে টহল। কোনো কিছু নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত থানার ওসির কাছে নির্দেশ গিয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফোর্স মজুত রাখতে। যাতে ফল বেরনোর পর হিংসা হলে দ্রুত মোকাবিলা করা যায়। পাশাপাশি, নগরপাল অজয় নন্দা ওসিদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো থানা এলাকায় গণ্ডগোল হলে, দায় বর্তাবে সেই থানার ওসির উপর।
কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে ভোটপর্ব মিটেছে শান্তিতে। ভোটের আগে রাজ্যে বড়ো ধরনের গোলমালের ঘটনা ঘটেনি। ভোটপর্ব মেটার পর যাতে সর্বত্র শান্তি বজায় থাকে সেজন্য তৎপর লালবাজার। ইতিমধ্যে উত্তেজনাপ্রবণ ও স্পর্শকাতর এলাকার তালিকা হাতে এসেছে। লালবাজারের কর্তারা জোর দিতে চাইছেন, বিভিন্ন লেন ও বাইলেনগুলির উপর। কারণ এখান থেকে অশান্তি শুরু হয়। যা চলে আসে বড়ো রাস্তায়। সেই কারণে লালবাজার নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি থানা দুটি করে বাইক বের করবে এলাকায় নজরদারির জন্য। বাইকে সাইড আর্মস নিয়ে থাকবেন সাব ইনস্পেক্টর, সার্জেন্ট বা এএসআই। তাঁদের সঙ্গে সশস্ত্র পুলিশের একজন কনস্টেবলকে রাখতে হবে। বাইকে টহলরত পুলিশকর্মীদের কাছে অবশ্য থাকবে ওয়াকিটকি সেট। যাতে কোথাও গোলমালের খবর এলে দ্রুত সেখানে মুভ করানো যায়। বাইকে করে যাঁরা টহল দেবেন, তাঁরা মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করবেন। বোঝাবেন, পুলিশ সক্রিয় রয়েছে এবং কিছু হলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা।
সবমিলিয়ে ৮০টি থানার জন্য ১৬০টি মোটর বাইকের ব্যবস্থা করেছে লালবাজার। এর আগে ভোটের সময় গোলমাল হয়েছে এমন এলাকায় বেশি করে টহল দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। একইসঙ্গে লালবাজারের কর্তারা গুরুত্ব দিতে চাইছেন, ফল বেরনোর পর যেন কোনো ঘটনা না ঘটে। সেই কারণে বলা হয়েছে টেনশন রয়েছে এমন এলাকায় পুলিশ পিকেট বসাতে হবে ও পেট্রোলিং চলবে। একইসঙ্গে স্ট্যান্ড বাই হিসাবে আলাদা ফোর্স রাখতে নির্দেশ এসেছে। যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে ওই ফোর্স দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঠানো যায়।