• হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি, ক্ষতির মুখে ধানচাষিরা
    বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতির মুখে পড়লেন ধানচাষিরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ, নামখানা, সাগর, পাথরপ্রতিমা, কুলতলি, ভাঙড় সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও বিঘার পর বিঘা জমিতে পাকা ধান পড়ে রয়েছে। এদিকে হঠাৎ বৃষ্টির জেরে ধানগাছের গোড়ায় জল জমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবল সমস্যার মধ্যে পড়েছেন কৃষকরা। শীঘ্রই জমি থেকে গাছ কাটা না হলে, সব ধান মাটিতে ঝরে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, বহু কৃষক আবার ধানগাছ কেটে জমিতে শুইয়ে রেখেছেন। তাঁরা আরও বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। কারণ জমিতে শুইয়ে রাখা এই ধান এই বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ঝড় ও বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখানকার কৃষকদের এখন মাথায় হাত।

    কাকদ্বীপ এলাকার এক ধানচাষি তপন দাস বলেন, অসময়ে হঠাৎ এই বৃষ্টির জেরে ধানচাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চারভাগের মধ্যে এখনো তিনভাগ কৃষক জমি থেকে ধান কেটে উঠতে পারেননি। আর যাঁরা ধান কেটে ফেলেছেন, তাঁরাও বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। সবাই খুবই ঝামেলার মধ্যে রয়েছেন। কৃষকরা সবাই ধান বাঁচাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

    বিধানচন্দ্র রায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ও অধ্যাপক ডঃ হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হঠাৎ বৃষ্টির কারণে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে যে সমস্ত জমিতে ধান কেটে শুইয়ে রাখা হয়েছে, সেগুলিকে এখনই উঠোনে তুলে নিতে হবে। না হলে সব ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার যেসব জমিতে এখনও ধান কাটা হয়নি, কিন্তু গোড়ায় জল জমে গিয়েছে, সেখানে এখনই নিকাশির মাধ্যমে অতিরিক্ত জল বের করে দিতে হবে। এর আরও কয়েকদিন পরে ওই জমি থেকে ধান কাটতে হবে। এছাড়াও ঝড়ে যে সমস্ত ধানগাছ শুয়ে গিয়েছে, সেগুলিকেও কেটে বাড়ির উঠোনে নিয়ে আসতে হবে। তবেই ক্ষতির মুখ থেকে 

    বাঁচা সম্ভব।
  • Link to this news (বর্তমান)