আগাম জামিন পেলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় গুয়াহাটি হাই কোর্টে আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এবার সেখানে মঞ্জুর হল আবেদন। তাঁর বিরুদ্ধে মানহানি ও জালিয়াতির মামলা করেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া।
উল্লেখ্য, মামলার সূত্রপাত পবন খেরার (Pawan Khera) প্রকাশ্যে এক অভিযোগ ঘিরে। তিনি দাবি করেছিলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীর একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট ও বিদেশে সম্পত্তি রয়েছে। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেন রিনিকি এবং হিমন্ত নিজেও। সেই মন্তব্যের পরই রিনিকি মানহানির মামলা করেন। দায়ের হয় এফআইআর। গত ৭ এপ্রিল পবন খেরার দিল্লির বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে তখন তিনি সেখানে ছিলেন না। এরপরই গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় এফআইআরের বিরুদ্ধে তেলেঙ্গানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন পবন। গত ১০ এপ্রিল তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের ট্রানজিট জামিন মঞ্জুর করে তেলেঙ্গানার উচ্চ আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় অসম সরকার। সুপ্রিম কোর্ট কংগ্রেস নেতার আবেদন খারিজ করে দেয়। এমনকী তেলেঙ্গানা হাই কোর্টের আবেদনের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেন পবন।
বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলারই শুনানি। পবনের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, পবন খেরা একজন পাবলিক ফিগার। দেশ ছেড়ে পালানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। এবং তিনি তদন্তে সব রকমের সহায়তা করতে রাজি। শেষপর্যন্ত রায়দান স্থগিত রাখে শীর্ষ আদালত। অবশেষে এবার বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী ও বিচারপতি এ এস চান্দুরকরের বেঞ্চ গুয়াহাটি হাইকোর্টের আগাম জামিন নামঞ্জুর করার আদেশটি খারিজ করে দেয়। সেই সঙ্গে বেঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, মামলার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি রাজনৈতিক রেষারেষির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যা পবনের ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষাকে অপরিহার্য করে তোলে।