এগরার আইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, স্ট্রংরুমের সামনে তুলকালাম তৃণমূলের
প্রতিদিন | ০১ মে ২০২৬
এগরা থানার আইসি সুশান্ত চট্টপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ। স্ট্রংরুমের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মহকুমা শাসক ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই ঘটনা নিয়ে শুরু জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর।
তৃণমূল প্রার্থী পীযুষকান্তি পণ্ডার অভিযোগ, এগরা থানার আইসি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পটাশপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতিকে স্ট্রংরুমের (Strong Room) ভিতরে নিয়ে যান। তাঁর দাবি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক প্রার্থীর প্রতি পুলিশের এই ‘অতি তৎপরতা’ নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৃণমূল প্রার্থী ও কয়েকশো কর্মী-সমর্থক এগরা থানার আইসিকে ঘেরাও করে। বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজিত জনতা আইসির অপসারণের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে স্ট্রংরুম সংলগ্ন চত্বর।
উত্তেজনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন এগরার মহকুমা শাসক মঞ্জিত যাদব। তিনি বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই আসরে নামতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে ওই এলাকা থেকে সরাতে হবে। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বলে রাখা ভালো, এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্য়ায় স্ট্রংরুমের ভিতরে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে ক্ষুদিরাম অনুশীলন সমিতির সামনে ধরনায় বসেন বেলেঘাটা, শ্যামপুকুর ও জোড়াসাঁকোর তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা ও বিজয় উপাধ্যায়। রাতেই শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে ভবানীপুরের স্ট্রংরুম পরিদর্শন করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারচুপির আশঙ্কা করে আগামী ৪ মে সাংবাদিক বৈঠক না করা পর্যন্ত গণনাকেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ দেন তিনি।