• গণনা নিয়ে বিশেষ নজরদারি তৃণমূলের, শনিবার বিকেলে এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা ও অভিষেক
    বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার ভোট গণনার দিনে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিজেপি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত করতে পারে। তাই গণনা কেন্দ্রে যে তৃণমূলের সৈনিকরা থাকবেন, তাঁরা সব দিকে নজর রাখবেন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই গণনা কেন্দ্রে যে সমস্ত তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টরা থাকবেন, তাঁদের করণীয় কর্তব্য কি কি হবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট বার্তা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেল চারটের সময় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক দেখেছেন তিনি। এই বৈঠকে কাউন্টিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকবেন। আর থাকবেন দলীয় বেশ কয়েকজন পদাধিকারী। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, গণনা কেন্দ্রে যাঁরা যাবেন, তাঁরা তাঁদের কর্তব্য দায়িত্বের সঙ্গে পালন করবেন। কোনোরকম শিথিলতা যেন না আসে। গণনা শুরু হওয়ার এক ঘন্টা আগেই সেই কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে। সকাল আটটা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সময়টাই প্রতি মুহূর্তে নজর রাখতে হবে। পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম কাউন্টিংয়ে সঠিকভাবে তথ্য খাতায় নথিভুক্ত করতে হবে। খাবার খেতে বা বাথরুমে যেতে হলে অন্য যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিয়ে সেখান থেকে বেরোতে হবে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে ফিরে আসতে হবে। 

    গত নভেম্বর মাসে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়। সেই সময় থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে তৃণমূল। ভোট রক্ষার শিবির করে প্রত্যেক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। গত ছয় মাস ধরে রাজ্যের মানুষের পাশে থেকে ভোট সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তৃণমূলের কর্মীরা। সাধারণ মানুষ যে রায় দিয়েছেন তা তৃণমূলের পক্ষেই আসবে বলে স্থির বিশ্বাস নেতা-কর্মীদের। তাই গণনার দিনে সাধারণ মানুষের মতামতকে কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে বা ইভিএমে কারচুপি করতে না পারে সেদিকেই এখন কড়া নজর তৃণমূলের। এটা দেখা গিয়েছে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্ট্রং রুমে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন। চার ঘণ্টা থেকে পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর বার্তা, আমরা ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসছি। বিজেপি হারছে বুঝে ইভিএমে কারসাজি করতে পারে। 

    অন্যদিকে এর আগে গত দুমাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সভা করে তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনটা বাংলাকে রক্ষা করার ভোট। তাই এই ভোটটা হল প্রতিবাদের ভোট, প্রতিশোধের ভোট, বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার ভোট। তৃণমূলের প্রতি সাধারণ মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত ও উন্মাদনা দেখা গিয়েছে তাতে ২৩০ আসন পার করে যাবে জোড়াফুল।
  • Link to this news (বর্তমান)