• ক্যারিশমার নাম শুভেন্দু! ছেলেবেলায় রামকৃষ্ণ মিশনে যেতেন, পরে ছাত্র পরিষদ, আজ CM হওয়ার দৌড়ে
    আজ তক | ০৫ মে ২০২৬
  • বিজেপির বাংলা জয়ে মোদী-শাহ জুটির ক্যারিশ্মা যেমন ম্যাজিক দেখিয়েছে, তেমনই কামাল করেছেন বাংলার ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীও। পরপর দু'বার মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি এখন 'জায়ান্ট কিলার'। কিন্তু নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর, শুভেন্দুর এই রাস্তা কিন্তু খুব মসৃণ ছিল না। কীভাবে আজ মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে অধিকারী পরিবারের ছেলেটি?

    বলা হয় ছোটবেলা থেকেই আধ্যাত্মিক ভাবনা চিন্তা করতেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী প্রতি শনিবার করে রামকৃষ্ণ মিশনে যাওয়াও ছিল শুভেন্দুর নিত্তনৈমত্তিক অভ্যাস। বাড়িতে জমানো খুচরো টাকা নিয়ে মিশনে দিয়ে আসতেন তিনি। এমনকি শুভেন্দুর পরিবারের লোকজন মনে করেছিলেন, যে কোনও সময় বিবাগী পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী।

    রাজনৈতিক জীবনের শুরু

    তবে শেষপর্যন্ত সংসার ত্যাগ করেননি শুভেন্দু। কিন্তু  বিয়ে করে সংসারী হবেন না বলেও পণ করেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু হয় আটের দশকের শেষ দিকে কাঁথির প্রভাতকুমার কলেজে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের হয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি করেন শুভেন্দু। সেখানে তাঁর নেতৃত্বেই সোমেন-গোষ্ঠীর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

    এরপর ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভা ভোটে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে কাউন্সিলর হন শুভেন্দু। তার তিন বছর পরেই ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গড়েন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। শুরুতে সেই দলে শামিল না হলেও, কিছুদিন পর TMC-তে নাম লেখান শুভেন্দু অধিকারী।

    রাজনৈতিক কেরিয়ারে উত্থান শুভেন্দুর

    এরপর আসে ২০১১ সাল। পশ্চিমবঙ্গে ঘটে ক্ষমতার পালাবদল। বামেদের হারিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মেদিনীপুরে বাড়ে অধিকারী পরিবারের দাপট। ২০১৪ সালে প্রত্যাশা মতোই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি তমলুক কেন্দ্র থেকে জেতেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এরপরেই শুরু হয়  ডামাডোল। আচমকাই শুভেন্দুকে যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে সৌমিত্র খাঁকে বসান মমতা। একইসঙ্গে  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘যুবা’ নামে একটি সমান্তরাল সংগঠনও তৈরি করা হয়। সেই সময় প্রথম দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি 'শুভেন্দুর ক্ষোভ'এর খবর সামনে আসে।

    তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল

    ২০১৬ সালে নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক হয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় এন্ট্রি হয় অধিকারী পরিবারের ছেলের। কিন্তু এরপর ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের ফল ভাল না হওয়ায় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে শুভেন্দুকে সরানো হয়। এমনকি, ২০২০-র অগস্টে তৃণমূলের রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের দায়িত্ব থেকে সরানো হয় শুভেন্দুকে। পাশাপাশি, তুলে দেওয়া হয় জেলা পর্যবেক্ষকের পদও। মনে রাখতে হবে, এই সময় একাধিক জেলার পর্যবেক্ষক পদে ছিলেন শুভেন্দু। সেই পদগুলিও হারান তিনি।

    তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ শুভেন্দুর

    পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৃণমূল ছেড়ে  BJP-তে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর ২০২১ সালে ফের বিধানসভা  নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকেই জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। সেইবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম তোলেন তিনি। পরবর্তীতে হন বিরোধী দলনেতা এবং ক্রমশ রাজ্য বিজেপির অন্যতম প্রধান ‘মুখ’ হয়ে ওঠেন তিনিই।

    এখন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শুভেন্দু অধিকারী

     
  • Link to this news (আজ তক)