‘জয়ে’র পরও সরকার গড়ার অনুমতি দিচ্ছেন না রাজ্যপাল! এবার আদালতের পথে বিজয়! ‘পাশে’ ডিএমকেও
প্রতিদিন | ০৮ মে ২০২৬
সব ঠিক থাকলে আজই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে ফেলতেন তিনি। তাঁর শপথগ্রহণের জন্য চেন্নাই সেজেও উঠেছে। হাজার হাজার টিভিকে সমর্থক নিজেদের নেতাকে কুরসিতে দেখতে মরিয়া। কিন্তু এ সব কিছুই আটকে রাজ্যের রাজ্যপাল আর ভি আরলেকরের অনড় মনোভাবের জন্য। ১১৮-র ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে না পারলে তিনি কোনওভাবেই বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ করাতে নারাজ।
বস্তুত এবারের নির্বাচনে চমকপ্রদভাবে তামিনাড়ুতে একক বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে এসেছে টিভিকে। কিন্তু তারা ‘জাদু সংখ্যা’ এখনও ছুঁতে পারেনি। টিভিকের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। কিন্তু ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ুর বিধানসভায় সরকার গড়তে গেলে দরকার ১১৮টি আসন। এই অবস্থায় বিজয়ের দলকে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস। সবমিলিয়ে বিজয়ের পক্ষে এখন রয়েছে ১১৩টি আসন। যেটিও পর্যাপ্ত নয়। এখনও দরকার ৫ বিধায়কের সমর্থন। সূত্রের খবর, সিপিআই, সিপিএম এবং ভিসিকে-র মতো দলগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন বিজয়। কিন্তু এখনও কোনও দলই সমর্থনের চিঠি দেননি বিজয়কে। ফলে জট কাটছে না।
১১৩ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়েই আপাতত সরকার গড়তে চান থলপতি। সেই দাবি নিয়ে দুবার তিনি গিয়েছেন রাজ্যপালের কাছে। কিন্তু ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি ছাড়া কোনওভাবেই বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ করাতে নারাজ রাজ্যপাল আরলেকর। বিজয়ের দলের অভিযোগ, দিল্লির ইশারাতেই এভাবে শপথ আটকাচ্ছেন রাজ্যপাল। একক বৃহত্তম দল হিসাবে সরকার গড়ার দাবিদার তারাই। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটে কোনও দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বৃহত্তম দল বা জোটকেই সরকার গড়ার অধিকার দেওয়া হয়। তাছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয় বিধানসভায়। রাজ্যপালের সামনে নয়। রাজভবন কোনওভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ চাইতে পারে না।
সূত্রের দাবি, দ্রুত রাজ্যপাল বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ না করালে টিভিকে আদালতের দ্বারস্থ হবে। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যপালের অবস্থান বেআইনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সরকার গঠনে সমর্থন না করলেও রাজ্যপালের এই আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে ডিএমকে, ভিসিকের মতো তামিল দলগুলি। ডিএমকের এক নেতা বলছেন, “রাজ্যপাল যেটা করছেন সেটা সংবিধান বিরোধী। তামিল অস্মিতার বিরোধী।” এমনকী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এসবের মধ্যে আবার আশার আলো দেখছেন বিজয়। সূত্রের খবর, ভিসিকের নেতারা তাঁকে সমর্থন করার ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করছেন। ওই সমর্থন পেয়ে গেলে বিজয়ের হাতে বিধায়ক ১১৭ পর্যন্ত হতে পারে।