• ‘সাম্প্রদায়িক’ বিজেপির সঙ্গ ছাড়লেই জোট, ‘চিরশত্রু’ এআইডিএমকে-কে বার্তা স্ট্যালিনের!
    প্রতিদিন | ০৮ মে ২০২৬
  • তামিলনাড়ুতে সরকার গড়া নিয়ে জটিলতা অব্যাহত। একদিকে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হয়েও সরকার গড়তে পারেনি, অন্যদিকে ‘চিরশত্রু’ ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোট বাঁধছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও ডিএমকে সূত্রে খবর, এমকে স্ট্যালিনের দল ইতিমধ্যে এআইডিএমকে নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সঙ্গে জোট বাঁধতে হলে ‘সাম্প্রদায়িক দল’ বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে হবে। এদিকে শুক্রবার তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার বার্তা দিলেন, বিধানসভার ‘ম্যাজিক সংখ্যা’ যে দলের কাছে থাকবে তাকেই সরকার গড়তে ডাকা হবে।

    একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, স্ট্যালিনের দলের তরফে এআইডিএমকে-কে বার্তা দেওয়া হয়েছে, কোনওরকম সমঝোতার আগে বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে হবে তাদের। উল্লেখ্য, গত মাসে নির্বাচনের আগে বিজেপির সঙ্গে জোট করেছিল এআইডিএমকে। এছাড়াও অতিরিক্ত শর্ত হিসাবে বিদুতলাই চিরুথাইগাল কাচ্চির মতো ডিএমকের ছোট মিত্র দলের জন্য মন্ত্রীপদ নিশ্চিত করতে হবে বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ছোট আঞ্চলিক দলটি দুটি আসন জিতেছে। ইতিমধ্যে তাদেরকে জোট প্রস্তাব দিয়েছে থলপতি বিজয়ের দল টিভিকে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নির্বাচনে এমকে স্ট্যালিনের বিদায়ী শাসক দল ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন। অন্যদিকে ৪৭টি আসন পেয়েছে এআইডিএমকে। অর্থাৎ দুই দল একজোট হলে মোট আসন হবে ১০৬। তাতেও ক্ষমতায় আসা কঠিন। কারণ ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ‘ম্যাজিক সংখ্যা’ ১১৮। প্রশ্ন হল, বাকি বারোটি আসন কীভাবে জুটবে?

    এদিকে নির্বাচনে চমকপ্রদভাবে তামিনাড়ুতে একক বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে এসেছে টিভিকে। কিন্তু তারা ‘জাদু সংখ্যা’ ১১৮ ছুঁতে পারেনি। টিভিকের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। কিন্তু ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ুর বিধানসভায় সরকার গড়তে গেলে দরকার ১১৮টি আসন। এই অবস্থায় বিজয়ের দলকে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস। সবমিলিয়ে বিজয়ের পক্ষে এখন রয়েছে ১১৩টি আসন। যেটিও পর্যাপ্ত নয়। এখনও দরকার ৫ বিধায়কের সমর্থন। সূত্রের খবর, সিপিআই, সিপিএম এবং ভিসিকে-র মতো দলগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছেন বিজয়। কিন্তু এখনও কোনও দলই সমর্থনের চিঠি দেননি বিজয়কে। ফলে জট কাটছে না।

    নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ‘ম্যাজিক সংখ্যা’ না থাকলেও সংখ্যগরিষ্ঠ দলকে সরকার গড়তে ডাকবেন রাজ্যপাল। শপথবাক্যও পাঠ করাবেন তিনি। এর পর বিধানসভায় ‘ম্যাজিক সংখ্যা’ প্রমাণ করতে হয় রাজ্যপালকে। সেক্ষেত্রে রাজ্যপাল চাইলেই টিভিকে-কে শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করাচ্ছেন না। এই অবস্থায় রাজ্যপালের রাজনৈতিক অভিসন্ধী নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। টিভিকে জানিয়ে দিয়েছে, দ্রুত রাজ্যপাল বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ না করালে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে। তাদের অভিযোগ, রাজ্যপালের অবস্থান বেআইনি। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)