• বিপ্লবের ভূমিই এবার বঙ্গ রাজনীতির পাওয়ার হাউস, পাঁচ দশক পর ফের মসনদে মেদিনীপুরের ছেলে
    প্রতিদিন | ০৯ মে ২০২৬
  • রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী কাল, শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে শপথপ্রহণ। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, সেই ঘোষণার পরেই উৎসব শুরু হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। শান্তিকুঞ্জ-সহ নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা আবির খেলায় উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন। ব্রিটিশ আমলে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তাম্রলিপ্ত সরকার গঠিত হয়েছিল। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন বিপ্লবী দেশপ্রাণ শাঁসমল, মাতঙ্গিনী হাজরা। সেই আন্দোলনের মাটি থেকেই শুভেন্দু অধিকারী এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। আক্ষরিক অর্থে বলাই যায়, কলকাতা থেকে জেলায় যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার।

    বাম আমল ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে জেলা বরাবর উপেক্ষিত ছিল, এমনই অভিযোগ একাধিক সময়ে উঠেছিল রাজনৈতিক মহলে। শুভেন্দু অধিকারী একসময় নিজে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী-সহ অন্যান্য মন্ত্রী সব কলকাতা ও আশপাশের এলাকা থেকে হত। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদ সবই কলকাতার বিজয়ী বিধায়করা পেতেন! জেলা বরাবরই উপেক্ষিত থাকত। জেলায় আন্দোলন করে ভোটে জিতে আশা বিধায়করা বরাবর থাকতেন পিছনের সারিতে। বড় জোড় প্রতিমন্ত্রী করা হত! জেলা থেকে রাজ্য পরিচালনা হবে, সেই ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু। এবার সেই কথাই বাস্তব হওয়ার ক্ষেত্রে আর কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। 

    সেই ইচ্ছাই যেন এবার পূরণ হল শুভেন্দুর। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি থেকে ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের করিডর দিয়ে হেঁটে যাবেন কোনও মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক তথ্য বলছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা আগেও মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছিল। সেটা ছিল ১৯৭৭ সাল। বাংলা কংগ্রেসের হয়ে যুক্তফ্রন্টের হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন অজয় কর। তিনি ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। পাঁচ দশক পর শুভেন্দুর মাধ্যমে ফের বাংলার এই উপকূলীয় জেলা মুখ্যমন্ত্রী পেল।

    শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বাম আমলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনিই। সিপিএমের গড় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিরোধীরা মাথা তুলে দাঁড়ায়। বাম সরকারের পতনের অন্যতম কারণ ছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলন। সেকথা মেনে নেয় রাজনৈতিক মহল। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা পোক্ত করেছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে পরাস্ত করেছিলেন। এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। ঘরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাবেন, সেই কথা জোর গলায় দাবি করেছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন হয়। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ২০৭টি আসন জিতে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় প্রথমবার এসেছে। সেই ইতিহাসের কাণ্ডারীও শুভেন্দু। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)