• 'স্বাস্থ্য সাথী' ও 'আয়ুষ্মান ভারত' একসঙ্গে চালানোর ভাবনা, NHA-র সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক
    আজ তক | ০৯ মে ২০২৬
  • ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলায় স্বাস্থ্য পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের জনপ্রিয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘স্বাস্থ্য সাথী’ এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’কে কীভাবে একসঙ্গে কার্যকর করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি’ এবং অন্যান্য রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও শুরু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য দফতর এক অফিসার জানিয়েছেন, নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর রূপরেখা তৈরি নিয়ে আলোচনা চলছে। ওড়িশার মতো রাজ্যে কীভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প একসঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ২০১৬ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে প্রতিটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পায়। রাজ্য সরকারের দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ কোটিরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন।

    অন্যদিকে, ২০১৮ সালে চালু হওয়া ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা বিমার সুবিধা দেয়। এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হল, দেশের যেকোনও প্রান্তে তালিকাভুক্ত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা পাওয়া যায়। ফলে বাংলার বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও সহজেই এই সুবিধা নিতে পারবেন।

    স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, 'আয়ুষ্মান ভারতের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো অনেক বেশি উন্নত। জালিয়াতি রুখতে নজরদারি ব্যবস্থাও শক্তিশালী।'

    তবে দুটি প্রকল্পকে একত্রিত করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পে আয় বা বয়সের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এ নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। ফলে অনেক মানুষ সুবিধার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    এদিকে, বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ইতিমধ্যেই ‘স্বাস্থ্য সাথী’-র আওতায় রোগী ভর্তি নিতে অনীহা দেখাতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছ থেকে বকেয়া টাকা ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।

    তবে হাসপাতাল সংগঠনগুলির একাংশ জানিয়েছে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করলে তারা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

     
  • Link to this news (আজ তক)