• 'শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে জেল খেটেছেন', মাখনলালের লড়াইয়ে কাহিনি শোনালেন স্ত্রী
    আজ তক | ০৯ মে ২০২৬
  • PM Narendra Modi Makhanlal Sarkar BJP: রাজনীতির আঙিনায় ক্ষমতার পালাবদল থাকে, থাকে লড়াইয়ের উত্তাপ। কিন্তু সেই সবের ঊর্ধ্বে যখন একজন প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের ন’দশক পুরনো এক কর্মীর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন, তখন তা ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ঠিক এমনটাই ঘটল। মঞ্চে তখন চাঁদের হাট, কিন্তু আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন ৯৮ বছর বয়সি মাখনলাল সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঞ্চে উঠেই সোজা চলে যান প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকারের কাছে। হেঁট হয়ে তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন তিনি। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত জনতা যেমন আপ্লুত, তেমনই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মাখনলালবাবুর স্ত্রী, ৭৭ বছর বয়সি পুতুল সরকার। শিলিগুড়ির ডাগ এলাকার বাসিন্দা এই দম্পতি আজ জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয়। পুতুলদেবী বলেন, “আমার স্বামী সারা জীবন দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। আজ যখন প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁকে এই সম্মান দিলেন, তখন মনে হচ্ছে ওঁর সব লড়াই সার্থক হয়েছে।”

    কাশ্মীর আন্দোলন থেকে মন্দির নির্মাণ
    মাখনলাল সরকার সেই সময়ের কর্মী, যখন বিজেপির জন্মও হয়নি। ১৯৪৫ সাল থেকে তিনি আরএসএস-এর একনিষ্ঠ সেবক। ১৯৫২ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাশ্মীর আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেছিলেন তিনি। ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর উত্তরবঙ্গের তিন জেলা, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং পশ্চিম দিনাজপুরে সংগঠনের ভিত শক্ত করার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। মাত্র এক বছরে ১০ হাজার নতুন সদস্যকে দলে টেনেছিলেন তিনি। রাম মন্দির আন্দোলনের সময় তাঁর বাড়ির উঠোনেই হয়েছিল শিলাপূজন। অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণ দেখে যাওয়া তাঁর কাছে এক অপার্থিব প্রাপ্তি।

    ঘরছাড়া সেই দিনগুলি
    ছেলের বর্ণনায় উঠে এল এক আদর্শবাদী বাবার ছবি। তাঁর পুত্র মাণিকলাল সরকার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, শৈশব থেকেই দেখেছেন বাবা কীভাবে অটল বিহারী বাজপেয়ী বা লালকৃষ্ণ আদবানির মতো নেতাদের সঙ্গে সংগঠনের কাজ করেছেন। কখনো ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন, ফিরতেন গভীর রাতে। মাখনলালবাবুর স্ত্রী বলেন, “বিয়ের পর থেকেই দেখেছি ওঁর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান ছিল সংগঠন। সকাল হলেই শাখার কাজে বেরিয়ে যেতেন।”

    কলকাতায় ডাক
    শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ঠিক আগের দিন দলের তরফে বিশেষ বার্তা পৌঁছায় শিলিগুড়ির বাড়িতে। জানানো হয়, মাখনলাল সরকারকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে কলকাতায়। ছোট ছেলের হাত ধরে কলকাতা রওনা হন এই প্রবীণ জননেতা। রাজনীতির রুক্ষ জমিতে মাখনলাল সরকারের মতো আদর্শবাদী কর্মীদের এই সম্মানপ্রাপ্তি এক ইতিবাচক বার্তা দিয়ে গেল।

     
  • Link to this news (আজ তক)