• শপথমঞ্চে মাখনলাল সরকারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম মোদির, কে এই ৯৮ বছরের ‘তরুণ’?
    প্রতিদিন | ০৯ মে ২০২৬
  • বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান (West Bengal CM 2026 Oath Ceremony) হয়েছে। সেই মঞ্চেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) পায়ে হাত দিয়ে এক বৃদ্ধকে প্রণাম করলেন। মাখনলাল সরকার (Makhanlal Sarkar) নামে ওই বৃদ্ধ তখন আবেগাপ্লুত। মোদিকে জড়িয়ে ধরেছেন তিনিও। ৯২ বছরের বৃদ্ধ মাখনলাল বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাশ্মীর যাত্রার সঙ্গী ছিলেন। সেসময় জেলও খেটেছেন তিনি। শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিকে আগলে রেখে তিনিও বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে বুনেছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তব হওয়ায় তাঁর চোখও জ্বলজ্বল করেছে। কিন্তু কে এই মাখনলাল সরকার?

    বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির প্রথম সারির নেতারা। উপস্থিত ছিলেন এনডিএ-শাসিত ২১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ওই অনুষ্ঠানেই বিশেষ আমন্ত্রিত ছিলেন মাখনলাল সরকার। তিনি মঞ্চে উঠতেই বিজেপির নেতারা এগিয়ে যান। তাঁকে সম্মান জানান। নরেন্দ্র মোদি নিজে শাল, উত্তরীয় জড়িয়ে তাঁকে সম্মানিত করেন। ৯৮ বছরের বৃদ্ধের পা ছুয়ে প্রণাম করেন। আবেগে সেইসময় মোদিকে জড়িয়ে ধরেছেন তিনি। 

    ওই বৃদ্ধের বাড়ি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম সূর্যনগর এলাকায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর বাড়ি। বিজেপি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তাঁর রাজনীতিতে উপস্থিতি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন তিনি। স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রথম সারির তৃণমূল ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম মুখ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কাশ্মীর নিয়ে টানাপোড়েন, অশান্তি শুরু হয়। কাশ্মীরের পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন। ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। সেই আন্দোলনের তাঁর সঙ্গী ছিলেন মাখনলাল সরকার। গ্রেপ্তারও হন। 

    শ্যামাপ্রসাদ জেলেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। জেলবন্দি থাকার পর ছাড়া পেয়েছিলেন মাখনলাল সরকার। বাংলায় ফিরে এসে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক আন্দোলন। ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হওয়ার পর, মাখনলাল সরকার দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কারী হন। এক বছরের মধ্যেই তিনি প্রায় ১০ হাজার সদস্য নথিভুক্ত করেছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি একটানা সাত বছর জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যা তৎকালীন দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে একটি বিরল কৃতিত্ব হিসেবে বিবেচিত হত।

    দেশের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী উত্তরবঙ্গে গিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গেও মাখনলালের সম্পর্ক ছিল হৃদ্যতাপূর্ণ। এদিন ব্রিগেডে উপস্থিত হয়ে স্মৃতির আবেগে ভেসেছেন ৯৮ বছর বয়সী তরুণ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)