কলকাতায় বেআইনি কসাইখানা বন্ধে তৎপর লালবাজার, গরুপাচার রুখতে থানাগুলিকে নির্দেশ
আজ তক | ১২ মে ২০২৬
রাজ্যজুড়ে অবৈধ গবাদি পশু বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নতুন সরকার। সমস্ত থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই বেআইনি গবাদি পশু পরিবহণ না হয় এবং এলাকার মধ্যে থাকা অবৈধ গবাদি পশুর আস্তানা, শেড ও হাটবাজারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রবিবার পুলিশ কর্তাদের দফতর থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত গবাদি পশুর হাট ও বাজার ছাড়া অন্য কোনও বেআইনি ব্যবসা চলতে দেওয়া যাবে না। সমস্ত থানাকে নিয়মিত তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ পরিবহণ, মজুত বা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক সিনিয়ক পুলিশ আধিকারিক জানান, 'গবাদি পশুর বেআইনি পরিবহণ যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বাণিজ্যিক যানবাহনে তল্লাশি চালাতে হবে এবং পশু পরিবহণকারী ও ব্যবসায়ীদের বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স খতিয়ে দেখতে হবে। কোনও বেআইনি হাট বা আস্তানা পাওয়া গেলে তা বন্ধ করে দিতে হবে।'
কলকাতা পুরসভা এলাকার মধ্যে গবাদি পশুর শেড বা আস্তানা তৈরির অনুমতি নেই বলেও প্রশাসন স্পষ্ট করেছে। অথচ বছরের পর বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বৈধ ও অবৈধ, দুই ধরনেরই বহু গবাদি পশুর আস্তানা গড়ে উঠেছে। এবার সেগুলোর বিরুদ্ধেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ‘পশ্চিমবঙ্গ গবাদি পশু লাইসেন্সিং আইন’-এর আওতায় গোটা বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়। কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, 'প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। কোনও অভিযোগ এলে বা বেআইনি কার্যকলাপ ধরা পড়লে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিই।'
সোমবার নবান্নে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গবাদি পশু পরিবহণ ও জবাই সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদি পশুর পরিবহণ ও জবাই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ বছরের বেশি বয়সী গবাদি পশুর পরিবহণ পশুচিকিৎসা আধিকারিকদের অনুমোদন ও নজরদারির আওতায় থাকবে। একইসঙ্গে রাজ্যে কোনও বেআইনি কসাইখানা বা জবাইখানা চালাতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন’ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই গবাদি পশু জবাই করা যাবে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গবাদি পশু পাচার বন্ধ করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কড়া করা হবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।