১০ লক্ষে নিটের প্রশ্নপত্র কিনে ১৫ লক্ষে বিক্রি! সিবিআইয়ের জালে নাসিকের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক
প্রতিদিন | ১৩ মে ২০২৬
নিট ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের (NEET Paper Leak) জেরে হেনস্তার শিকার দেশজুড়ে ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। এবার তদন্ত সূত্রে উঠে এল, মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ১০ লক্ষ টাকায় নিটের প্রশ্নপত্র কিনে ১৫ লক্ষ টাকায় তা হরিয়ানায় বিক্রি করা হয়। জানা গিয়েছে, কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয় নাসিক শহরে। সেখানেই প্রশ্নপত্রের প্রথম ডিজিটাল কপি হস্তান্তর হয়।
ইতিমধ্যে সিবিআই আটক করেছে শুভম খৈরনা নামের ব্যাচেলর অফ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (বিএএমএস)-র এক ছাত্রকে। নাসিকের নন্দগাঁওয়ের বাসিন্দা শুভমের সঙ্গে পরিচয় হয় ধনঞ্জয় নামের পুণের এক ব্যক্তির। অভিযোগ, তাঁরা দু’জন মিলে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। ধনঞ্জয়ের থেকে ১০ লক্ষ টাকায় প্রশ্নপত্র কিনে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকায় তা বিক্রি করেন শুভম। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মনে করা হচ্ছে, মহারাষ্ট্র থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র। এর মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও সিকার। এছাড়াও মোটা অঙ্কের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র পৌঁছে যায় জম্মু ও কাশ্মীর এবং বিহারের একাংশেও।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা গ্রেপ্তার করেছেন রাজস্থানের দুই ভাই মঙ্গিলাল ও দীনেশ বিওয়ালকেও। জানা যাচ্ছে, দুই ভাই পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল গুরুগ্রামের এক ডাক্তারের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকায় কিনেছিল নিটের প্রশ্নপত্র। ২৯ এপ্রিল তাঁরা এই প্রশ্নপত্র আরও বেশ কয়েকজনের কাছে বিপুল টাকায় বিক্রি করে। অভিযুক্ত এই দুই ভাই রাজস্থানের জামওয়া রামগড়ের বাসিন্দা। এদের একজন সিকারে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রামগড় থেকে সিকার আড়াই ঘণ্টার পথ। এই অঞ্চলই প্রশ্নফাঁসের কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। তবে সমস্যা বাঁধে রাজস্থানে। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল বিশাল বনশন বলেন, ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। অন্য একটি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রের ২৮১টি প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫টি প্রশ্ন আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে।
গোটা ঘটনায় কেন্দ্রকে তুলোধোনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সুর চড়িয়েছেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। ২০২৪ সালে নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। হাজার হাজার টাকায় প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগ ওঠে দেশের নানা প্রান্তে। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হল কিনা, প্রশ্ন তোলেন রাহুলরা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানিয়ে দেয়, ৩ মে’র পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে। পড়ুয়াদের ফের নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে।