• একই ওয়ার্ডে অনুমতি ছাড়া গড়ে উঠেছে ১৪টি বহুতল, হাইকোর্টকে দেওয়া রিপোর্টে জানাল বিধাননগর পুরনিগম
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: তপসিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হেঁটেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কলকাতার সমস্ত অবৈধ নির্মাণের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। কাটা হবে জলের লাইন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ঘোষণার দিনকয়েক আগেই কলকাতার পাশের শহর বিধাননগরে একাধিক নির্মাণ বেআইনি বলে চিহ্নিত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিধাননগর পুরনিগম। 

    নির্মাণগুলি তিন থেকে পাঁচতলা। সেগুলি জলাভূমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলাতেই রিপোর্ট জমা দিয়ে পুরনিগম জানিয়েছে, ১৫ থেকে ২০টি এমন নির্মাণ কোনোরকম অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে। আপাতত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই জমিগুলির চরিত্র সম্পর্কিত রিপোর্ট ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। অর্থাৎ যে জমিগুলির উপর নির্মাণগুলি গড়ে উঠেছে সেগুলি বাস্তু না জলাভূমি হিসেবে নথিভুক্ত তা জানাতে হবে বিএলআরওকে। 

    মামলাকারী সাবির আলি মণ্ডলের অভিযোগ, বিধাননগর পুরনিগমের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে যথেচ্ছহারে জলাভূমি বুঝিয়ে একের পর এক নির্মাণ গড়ে উঠেছে। মামলার বয়ানে আরও উল্লেখ, জমিগুলি শালি বা ডোবা হিসাবে নথিভুক্ত হলেও সেগুলি বেআইনিভাবে প্রথমে বুজিয়ে ফেলা হয়। তারপর পুরনিগমের কোনো অনুমতি ছাড়াই একের পর এক বহুতল বেআইনিভাবে গড়ে তোলা হয়। মামলাকারীর অভিযোগ, আটঘরা মৌজায় অন্তত এরকম ১৪টি নির্মাণ রয়েছে যার কোনটি ছ’তলা কোনটি আবার পাঁচতলা। শুধু তাই নয়, নির্মাণগুলির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ইতিমধ্যেই কোনোটিতে চালু হয়ে গিয়েছে নামকরা বিরিয়ানি সংস্থার শাখা। কোনোটিতে চলছে বড়ো হোটেল ও গাড়ির শোরুম। কোনো নির্মাণ আবার আবাসন হিসেবে তৈরি হয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেছেন, ওই নির্মাণগুলির কোনোটি ০.৩১ ডেসিমেল বা কোনটি ০.১৭ ডেসিমেলের পুকুর বুঝিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই অভিযোগ শোনার পর আদৌ ওই নির্মাণগুলি কোনোরকম অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে কি না তা জানাতে বিধাননগর পুরনিগমকে নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সেই মত‌ রিপোর্ট দিয়ে পুরনিগম জানিয়েছে, নির্মাণগুলি কোনোরকম স্যাংশন প্ল্যান বা পুরনিগমের অনুমতি ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। 

    স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য সরকারের এদিনের পদক্ষেপের পর প্রশ্ন উঠছে এই নির্মাণগুলি নিয়েও কি পরবর্তীতে একইরকম পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন? তবে শুধু বিধাননগরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডই নয় একাধিক জায়গায় একাধিক বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে বহু মামলা দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে। এমনকি সেনা নামিয়ে নির্মাণ ভাঙার হুঁশিয়ারিও দেখা দিতে গিয়েছে বিচারপতিদের। আপাতত ২০ মে এই মামলার শুনানির দিকে নজর সব পক্ষের।
  • Link to this news (বর্তমান)