শনিবার দেশে বর্ষা ঢুকে যেতে পারে, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রাজ্যের ৫ জেলায়
আজ তক | ১৫ মে ২০২৬
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দিকে বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ১৬ মে’র মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারে। তবে দেশের মূল ভূখণ্ডে এখনই বর্ষার কোনও প্রভাব পড়ছে না। বরং উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অঞ্চলের প্রভাবে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আর দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।
হাওয়া অফিসের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এর প্রভাবেই উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন এলাকায় বর্ষা প্রবেশের পরিবেশ আরও অনুকূল হচ্ছে।
বর্তমানে পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সিকিম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। পূর্ব বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন এলাকায়ও একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা এই সিস্টেমগুলো আবহাওয়ার পরিবর্তনে প্রভাব ফেলছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব পড়বে না বলেই জানানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে রবিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কলকাতায় আপাতত বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী দু’দিনে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে।
শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। আগামী কয়েক দিনে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন না হলেও দক্ষিণবঙ্গে গরম ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।