• যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে স্থগিতাদেশ খারিজ, সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধাক্কা বিজেপি নেতা কুলদীপের
    প্রতিদিন | ১৫ মে ২০২৬
  • সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধাক্কা খেলেন বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার। উন্নাও ধর্ষণ মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের উপর যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট, শুক্রবার তা খারিজ করল শীর্ষ আদালত। মামলাটি নতুন করে শুনানির জন্য ফের দিল্লি হাই কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

    গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়া কুলদীপের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের উপর শর্তসাপেক্ষে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। এই নির্দেশ সামনে আসার পর শোরগোল পড়ে যায় গোটা দেশে। হাই কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয় সিবিআইয়ের তরফে। সেই হামলাতেই হাই কোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, তিন মাসের মধ্যে সেঙ্গারের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষ করতে হবে, নয়তো সাজা স্থগিতের আবেদন নিয়ে নতুন করে নির্দেশ দিতে হবে হাইকোর্টকে।

    মামলায় সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছিল, বিধায়ক মানে তিনি সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন সেটা গর্হিত অপরাধ। অন্যদিকে সেঙ্গারের আইনজীবীর যুক্তি ছিল মামলার নথি অনুযায়ী ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন না। তবে সে দাবি সিবিআই খারিজ করে। এই মামলায় হাই কোর্ট জানিয়েছিল, বিধায়ককে সরকারি কর্মী হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ধারা লাগানো সম্ভব নয়। তবে হাই কোর্টের সেই যুক্তি সমর্থন করেনি সুপ্রিম কোর্ট।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে উন্নাওয়ের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল কুলদীপের। এই মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি ও হেনস্থার অভিযোগ সাড়া ফেলে দিয়েছিল দেশে। সুপ্রিম নির্দেশে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত একাধিক অভিযোগের তদন্তে নামে সিবিআই। যেখানে নির্যাতিতার বাবার মৃত্যু ঘটনায় এক পৃথক মামলায় ২০২০ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ড হয় কুলদীপের। চলতি ছরের শুরুতে সেই মামলাতেও কুলদীপের সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করা হয়েছিল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)