• গ্রেপ্তার নিট প্রশ্নফাঁসের মাস্টারমাইন্ড, সিবিআইয়ের জালে এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক
    প্রতিদিন | ১৬ মে ২০২৬
  • নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে এবার সিবিআইয়ের জালে মূল অভিযুক্ত। পিভি কুলকর্নি নামে পুণের বাসিন্দা এক শিক্ষককে এদিন গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ইনি একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং এনটিএ-র তরফে নেওয়া নিট পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেকচারার হিসেবে কর্মরত।

    আধিকারিকদের মতে, কুলকর্নি আসলে মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা। বেশ কয়েকবছর ধরে নিটের প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে প্রশ্নফাঁসের বিরাট চক্র তৈরি করা হয়েছিল। রিপোর্ট বলছে, গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে নিজের বাড়িতে একটি কোচিং ক্লাসের আয়োজন করেন ওই অভিযুক্ত। এখানে তিনি আর এক অভিযুক্ত মনীষা ওয়াঘমারের সাহায্য নেন। গত ১৪ মে মনীষাকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। দাবি করা হচ্ছে, এই কোচিংয়ে কুলকর্নি নিটের প্রশ্ন ও উত্তর বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দেন। পরে দেখা যায়, ৩ মে নিটের যে পরীক্ষা হয়েছিল সেখানে আসা প্রশ্নের সঙ্গে তা হুবহু মিলে গিয়েছে।

    এদিকে নিটের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর শুক্রবারই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যেসব মাফিয়া চক্র বারবার প্রশ্ন ফাঁস করছে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে। পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের সঙ্গে কোনভাবেই আপস করা হবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে ধর্মেন্দ্র বলেন, “রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করা সত্ত্বেও কমান্ড চেনে ত্রুটি ছিল। আমরা তা স্বীকার করছি এবং এটি উন্নত করার দায়িত্ব নিচ্ছি।” ইতিমধ্যেই প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ৭ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। অভিযুক্তরা জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুণে এবং অহল্যানগরের বাসিন্দা।

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিটের মতো কঠিন পরীক্ষা বারবার দেওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শামিল। তাই আগামী দিনে যেন প্রশ্ন ফাঁস একেবারে আটকে দেওয়া যায়, সেজন্য নিটের পরীক্ষা পদ্ধতি পুরোপুরি পালটে দেওয়া হবে। চলতি বছর পর্যন্ত পরীক্ষা হত খাতায় কলমে। ওএমআর শিটে পরীক্ষা দিত পড়ুয়ারা। আগামী ২১ জুন নিট পরীক্ষাও এই পদ্ধতিতেই নেওয়া হবে। কিন্তু পরের বছর থেকে পরীক্ষা পদ্ধতি পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে যাবে। কম্পিউটারে পরীক্ষা দেবে পড়ুয়ারা। অনলাইন পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে।

    উল্লেখ্য, গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। এহেন দুর্নীতি যেন আর না হয় সেটা নিশ্চিত করতেই অনলাইন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
  • Link to this news (প্রতিদিন)