জুনেই মোদি মন্ত্রিসভার রদবদল, বঙ্গ জয়ের পর এবার কি পূর্ণমন্ত্রক পাবে বাংলা? জল্পনা তুঙ্গে
প্রতিদিন | ১৬ মে ২০২৬
আগামী ২১ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে চলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব এখন থেকেই সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ৭২ জন সদস্য রয়েছেন। যদিও সাংবিধানিকভাবে আরও কয়েকজন মন্ত্রী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই কারণেই সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে নতুন মুখ আনা হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বঙ্গ বিজেপির কয়েকজন সাংসদকেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলা ও পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় বাংলা এতদিন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও পূর্ণমন্ত্রক একটিও জোটেনি। বিজেপির বঙ্গ জয়ের পর সেই ছবিতে বদল আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলীয় সাংসদ সৌমিত্র খাঁ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন, এমন সম্ভাবনা প্রবল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কের জেরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে। বিশেষ করে নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্কে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূমিকা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি রেল সংক্রান্ত একাধিক ইস্যুর কারণে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দপ্তর পরিবর্তনের জল্পনাও শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপির ভিতরে সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা কয়েকজন নেতাকে বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও সূত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে শিবরাজ সিং চৌহান, ভূপেন্দ্র যাদব এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার নাম রাজনৈতিক চর্চায় উঠে আসছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা বিজেপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে গোটা বিষয়টি আপাতত জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। তবুও ২১ মে-র বৈঠককে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে।