• লাগাতার মানসিক অত্যাচার, প্রেমিকার পরিবারের চাপে আত্মঘাতী যুবক?
    এই সময় | ১৭ মে ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: প্রেমিকার পরিবারের লাগাতার মানসিক অত্যাচার ও চাপের মুখে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক যুবক। মৃত যুবকের নাম বিক্রম বাউড়ি (২৩)। তিনি সালানপুরের ক্ষুদিকা গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার গভীর রাতে সালানপুরের পঞ্চানন আশ্রমের কাছে একটি গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। মৃত যুবকের পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসী যুবকের মৃতদেহ নিয়ে সালানপুর থানার সামনে রেখে তুমুল বিক্ষোভ দেখান।

    পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে খবর, দু’মাস আগে ক্ষুদিকা গ্রামের বাসিন্দা বিক্রম নিয়ামতপুরের এক নাবালিকার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কের কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। পরে তারা বিয়ে করে। কিন্তু মেয়ে নাবালিকা হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিক্রমকে, তার জেল হয়।

    সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্ত হয় বিক্রম। যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টির সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বিক্রমের বাবা কালীচরণ বাউড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিযোগ, মেয়েটির বাড়ির লোকজন এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিক্রমের উপরে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। চলছিল মানসিক নির্যাতনও। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না–পেরে শুক্রবার রাতে আত্মহত্যা করেন বিক্রম।

    আরও জানা গিয়েছে, গেছে, শুক্রবার রাতে আত্মঘাতী হওয়ার আগে বিক্রম এক বন্ধুকে নাকি ফোনও করেন। ফোনে সেই যুবক কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রেমিকার পরিবারের তরফ থেকে আসা তীব্র চাপের কথা বন্ধুকে জানান। থানার সামনে দেহ নিয়ে বসে থাকা বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘যারা আমাদের ছেলেকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। দোষীদের শাস্তি না –ওয়া পর্যন্ত লড়াই ছাড়ব না।’ বিক্রমের দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে আসানসোল জেলা হাসপাতালে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সালানপুর থানার ইনস্পেক্টর ইন–চার্জ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ আশ্বাস দেয়, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং এই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যুবকের পরিবারকে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত হবে।

  • Link to this news (এই সময়)