এই সময়, আমোদপুর: উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করেছে তারা। তবু দিশাহারা যমজ দু'ভাই। পড়াশোনা করে দু'জনেই সাবলম্বী হতে চাইলেও কাঁটা অভাবের সংসার। কী করে তারা লেখাপড়া চালিয়ে যাবে, তা ভেবে পাচ্ছে না।
বাবা টোটোচালক। বৈশাখের তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রবল বর্ষা কিংবা শীত, সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করে টোটো চালিয়ে দৈনিক সাকুল্যে রোজগার হয় ২০০-২৫০ টাকা। বাবার সেই আয়ের উপরে নির্ভর করে দুই ভাইয়ের লেখাপড়ার সঙ্গে চলে চার সদস্যের পরিবার। বীরভূম জেলার আমোদপুর সুকান্তপল্লির বাসিন্দা অরিত্র ভকত এবং অদৃত ভকত এ বছর আমোদপুর জয়দুর্গা হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে যথাক্রমে তারা ৪৩৫ এবং ৪২৭ নম্বর পেয়েছে।
অনমনীয় জেদ আর শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতাই তাদের এগিয়ে চলার পাথেয়। খুশির মুহূর্তে তাঁদের কথা ভোলেনি দুই ভাই। মধুশ্রী চট্টোপাধ্যায় এবং সুদীপ রায়ের কাছে বিনা পারিশ্রমিকে বাংলা ও অঙ্ক পড়ার সুযোগ পেয়েছে। শ্যামসুন্দর দাস এবং অরিন্দম সেন বাকি তিনটি টিউশনের খরচ বহন করেছেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'নতুন সকাল' দিয়েছে বই।
ছোট থেকে দু'জনেরই জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন। দু'মিনিটের বড় অরিত্রর আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা। অদৃত চায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে। তারা বলল, 'স্বপ্নপূরণ তো দূরের কথা, জানি না এর পরে কী ভাবে পড়াশোনা চলবে।' বাবা সুদীপ এবং মা পারমিতা বলেন, 'সন্তানরা ভালো রেজাল্ট করলে মা-বাবার আনন্দের সীমা থাকে না। আমরা ওদের পড়াশোনার খরচ কী ভাবে জোগাব, জানিনা।' লাভপুরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ওঝার আশ্বাস, 'ওদের স্বপ্নপূরণের জন্য আমি পাশে আছি।'