আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট (AI-171) দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য। দুর্ঘটনায় নিহতদের দেহ শনাক্ত করেছিলেন তাঁদের আত্মীয়রা। তাঁদের মধ্যেই একজন মর্গে ঢোকার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি রোমিন ভোহরা। তিনি জানিয়েছেন, মর্গে পাইলটের দেহ বসার ভঙ্গিতে এমন ভাবে রাখা ছিল, যেন দেখে মনে হচ্ছিল স্টিয়ারিং ধরে আছেন। এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্য রোমিন কোনও দিন ভুলবেন না বলেও জানিয়েছেন। লন্ডনগামী বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার আমেদাবাদের একটি কলেজের হস্টেলের উপরে ভেঙে পড়েছিল। ২০২৫ সালের ১২ জুনের এই দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রী ও বিমানকর্মী এবং হস্টেলের ১৯ জন মিলিয়ে মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ভাগ্যের জোরে অলৌকিক ভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন মাত্র এক যাত্রী।
এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন যশমিন, পারভেজ এবং পারভেজের মেয়ে। তাঁদেরই আত্মীয় রোমিন ভোহরা। রোমিন করোনার সময়ে আমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে প্যাথলজি ল্যাব সহকারী ছিলেন। সেই সূত্রেই তিনি মর্গের ভিতরে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, মর্গের ভিতরে সারি সারি মৃতদেহ মেঝেতে শোয়ানো ছিল। সেখানে ছিন্নভিন্ন হাত-পা এবং কোল ঘেঁষে পুড়ে যাওয়া মা ও শিশুর দেহ ছড়ানো ছিল। তিনি তাঁর ভাইঝির ছবির সঙ্গে একটি বাচ্চার মাথার খুলি মেলানোর মরিয়া চেষ্টা করছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন।
রোমিন আরও জানিয়েছেন, মর্গের এক কোণায় ছিল পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের দেহ, যা দেখে তিনি সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছেন। রোমিন জানিয়েছেন, পাইলটের দেহ তখনও বসার ভঙ্গিতে ছিল। তাঁর পিঠের অংশ পুড়ে গেলেও সামনের অংশ সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। কাঁধে চারটে সোনালি দাগ থাকা ইউনিফর্মের সাদা শার্ট, টাই, ট্রাউজ়ার এবং জুতো সব ঠিকঠাক ছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ক্যাপ্টেন সুমিত তখনও বিমানের ডবল-হ্যান্ডেল যুক্ত স্টিয়ারিং দু-হাতে শক্ত করে ধরে থাকার ভঙ্গিতেই ছিলেন। উদ্ধারকাজের সময়ে বা ধাক্কার চোটে স্টিয়ারিংটি হয়তো ভেঙে তাঁর সাথেই চলে এসেছিল। এমনকী মর্গে একজন ডাক্তারও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
গত বছরের ১২ জুলাই দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, টেকঅফের পরেই ফ্লাইটের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দুই পাইলটের কথোপকথন রেকর্ড হয়ে গিয়েছিল ব্ল্যাক বক্সে। সেখান থেকে জানা গিয়েছে, এক পাইলট আর এক পাইলটকে বলছেন, ‘তুমি কেন জ্বালানি বন্ধ করলে’। অন্যজন উত্তর দেন, ‘আমি করিনি’। এই রিপোর্টের পরে দুর্ঘটনার জন্য পাইলটদের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছিল।
তবে ক্যাপ্টেন সুমিত সভারওয়ালের বৃদ্ধ বাবা পুষ্কররাজ সাভারওয়াল এবং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। তাঁদের দাবি, মৃতরা নিজেদের ডিফেন্ড বা রক্ষা করতে পারবেন না বলেই এই ভুল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও একে দুর্ভাগ্যজনক বলেছিল। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু, সকলকে চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। খুব শীঘ্রই সেই রিপোর্ট প্রকাশ পাবে বলে সূত্রের খবর।