গ্রেটার নয়ডায় ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা সদ্য বিবাহিত এক তরুণীর। পণের দাবিতে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার হতো বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে গ্রেটার নয়ডার ইকোটেক ৩ থানার জলপুরা এলাকায় সোমবার। মৃত তরুণীর নাম দীপিকা (২৪)। তিনি বাদলপুর থানা এলাকার কুড়ি খেরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দেড় বছর আগে জলপুরা গ্রামের বাসিন্দা হৃতিকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দীপিকার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য যাঁরা অভিযুক্ত, তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
দীপিকার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর উপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার করতেন। দীপিকার বিয়ের সময়ে হৃতিকের পরিবারকে নগদ ১ কোটি টাকা এবং একটি দামি ফরচুনার গাড়ি (Fortuner SUV) দেওয়া হয়েছিল। তার পরেও হৃতিকের বাড়ির লোকেদের লোভ কমেনি। আরও পণের জন্য দীপিকার উপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলে অভিযোগ। দাবি মতো টাকা না পাওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকরা প্রায়ই ওই তরুণীকে মারধর করত এবং মানসিক ভাবে অত্যাচার করত বলে অভিযোগ।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে দীপিকা নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি পুলিশের। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) শৈলেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দীপিকার পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পিছনে পণ ছাড়াও অন্য কোনও বিষয় রয়েছে কি না তা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দেশে ক্রমশ বাড়ছে পণের দাবিতে অত্যাচারের ঘটনা। আর আগে নেশার টাকা না মেলায় বিষ ইঞ্জেকশন দিয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল স্বামীর বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের গুরুগ্রামের ওই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।