মোহিত দাস, বাঁকুড়া
বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে উঠে এল উদ্বেগজনক ছবি। জঙ্গলে ভরা, হাতিপ্রবণ এলাকায় থাকা বেলেশোলা জুনিয়র হাইস্কুল পরিকাঠামোগত সঙ্কটে জর্জরিত।
সাহারজোড়া পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই স্কুল বড়জোড়া দক্ষিণ চক্রের অধীনে চলে। বর্তমানে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৫৭। মোট শিক্ষক পাঁচ জন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ বারিক পড়ান ইংরাজি, দেবরাজ বিশ্বাস বাংলার শিক্ষক, সৌমিত্র দাস ইতিহাস পড়ান, গণিতের শিক্ষক শেখ হাবিবুর রহমান এবং রাজদীপ মণ্ডল পড়ান বিজ্ঞান। আছেন মনোজ দাস নামে এক শিক্ষাকর্মী, তিনি পিওনের কাজ করেন।
এই এলাকা জঙ্গলে ঘেরা এবং দীর্ঘদিন ধরেই হাতির উপদ্রব প্রবল। বিদ্যালয়ে কোনও বাউন্ডারি ওয়াল না-থাকায় রাতে হাতির দল স্কুল তছনছ করে দিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিড-ডে মিলের ঘর। সেই ঘর আর ঠিক হয়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলছেন, 'হাতিপ্রবণ এলাকায় স্কুল হলেও কোনও বাউন্ডারি ওয়াল নেই। মিড-ডে মিলের জন্য কিচেন শেড নেই। চারটি ঘরের মধ্যে একটি ঘরে থাকে মিড-ডে মিলের সামগ্রী। পড়াশোনার জন্য রয়েছে তিনটি ঘর। তার মধ্যেও একটি ঘরে আছে অফিস ও স্টাফরুম। তার মধ্যেই ক্লাস চলে।' পৃথক শৌচালয় থাকলেও নির্জন এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হয়। পানীয় জলের সাবমার্সিবল পাম্প খারাপ হয়ে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা সমস্যায় পড়ে।
হাতির উপদ্রবের কারণে অধিকাংশ পড়ুয়া নিয়মিত স্কুলে আসতেও চায় না। ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া অঙ্কিতা চট্টোপাধ্যায় বলছিল, 'হাতির দলের ভয়ে অধিকাংশ দিন স্কুলেই যাওয়া হয়ে ওঠে না।'
একই অভিমত স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সমীর মণ্ডলের। তিনি বলছেন, 'হাতির সঙ্গে সাপের উৎপাতও আছে। কিছুদিন আগে ক্লাসে সাপ ঢুকে পড়েছিল। বন দপ্তরের রেসকিউ টিম এসে তা উদ্ধার করে।'
স্কুলের বিবর্ণ দশায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। এক অভিভাবক উত্তম মণ্ডলের মন্তব্য, 'জঙ্গলের মধ্যে স্কুল, অথচ সেখানে কোনও প্রাচীর নেই। হাতি বেশ কয়েকবার দরজা ভেঙেছে। শিক্ষকেরা কোনওরকমে স্কুল পাহারা দিয়ে তা রক্ষা করেছেন। মিড-ডে মিলের সামগ্রী বাঁচাতে উপরে ছোট ঘর করতে হয়েছে।' স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে বিদ্যালয়ের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল, নতুন শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ মিড-ডে মিল ব্যবস্থা, পানীয় জল ও শৌচালয়ের উন্নতি না-হলে ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়বে।
স্কুলের পরিচালন সমিতির সদস্য ভোলানাথ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, 'গোটা স্কুল ঘিরে বাউন্ডারি চাই। মিড-ডে মিল শেড, সাইকেল রাখার জায়গা এবং নতুন বিল্ডিং দরকার। শিক্ষকরা অত্যন্ত কষ্ট করে স্কুল চালাচ্ছেন।' বড়জোড়া দক্ষিণ চক্র (এসআই) অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অনিকেত মুখোপাধ্যায় বলেন, 'ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমি একা কোনও উত্তর দিতে পারি না। সরকারি ভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সব জানেন।'