আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার ছিল রাজ্য মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট বৈঠক। সেখানে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, আগামী মাস থেকে বন্ধ হচ্ছে ধর্মীয় সব সহায়তামূলক প্রকল্প। এদিন ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তের জেরে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পুরোহিত ও ইমাম ভাতা।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্রত এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্ত ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ হবে। এই মাসে চলবে। পরের মাস থেকে এটা বন্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”
এছাড়া, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশনের ভিত্তিতে সরকারি কর্মীদের বেতনে সিলমোহর দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
ক্যাবনিটে নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধীনস্থ 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র নীতিগত অনুমোদনও হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। 'অন্নপূর্ণা যোজনা' হল ভারত সরকার পরিচালিত একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যা ২০০০ সালের ১ এপ্রিল চালু হয়। দরিদ্র ও উপেক্ষিত প্রবীণ নাগরিক (যাঁদের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি) যাঁরা কোনও সরকারি পেনশন স্কিমের আওতায় নেই, তাঁদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পে যোগ্য প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি মাসে ১০ কেজি করে চাল বা গম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। জাতীয় বার্ধক্য পেনশন প্রকল্পের জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যাঁরা কোনও কারণে পেনশন পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্যই মূলত এই প্রকল্পের সুবিধা তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, “যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদেরই নাম অন্নপূর্ণ ভাণ্ডার প্রকল্পে স্থানান্তর হয়ে যাবে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হবে। যাঁরা এত দিন পাননি, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। দ্রুত পোর্টাল খোলা হবে।” তিনি আরও জানান, যাঁরা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন বা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন।
এদিনের ক্যাবিনেট বৈঠকে ১ জুন থেকে রাজ্যের সকল সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহণ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চাকরি এবং সরকারি পদে অন্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) জন্য সংরক্ষণের শতকরা হার, রাজ্য তালিকাভুক্ত অন্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকার ক্ষেত্রে নতুন করে অনুসন্ধার করা হবে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে গোষ্ঠীগুলিকে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
ভোটের আগে সংকল্প পত্রে ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা নয়, ভাতের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। প্রতিশ্রুতি ছিল কর্মসংস্থান এবং সুশাসনেরও। এছাড়াও ঘোষণা ছিল, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য চালু হবে সপ্তম বেতন কমিশন। আপাতত, বিজেপি সরকার গঠনের ন'দিনের মাথায় সংকল্পপূরণের কথা জানান হল রাজ্য সরকারের তরফে।