• ৪ বছর ধরে ভোট হয়নি, পালাবদল হতেই মিরিক পুরসভায় সাফ TMC
    আজ তক | ১৮ মে ২০২৬
  • TMC Mirik LB Rai Resigns: রাজ্য রাজনীতিতে উত্থান-পতনের আবহেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পটপরিবর্তন ঘটল। পাহাড়ের ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই ঘাসফুল শিবিরের সংগঠনে নামল বড়সড় ধস। দল ছাড়লেন হিল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বর্ষীয়ান নেতা লালবাহাদুর রাই। লোকসভা নির্বাচনের পর পাহাড়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই এই ভাঙন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। লালবাহাদুরের এই আকস্মিক দলত্যাগের ফলে পাহাড়ের তৃণমূল সংগঠনে তীব্র বিপর্যয় নেমে এসেছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হতেই এই ভাঙন বা ধস অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। পদত্যাগের পর লালবাহাদুর রাই জানান, পাহাড়ি মানুষের আবেগ ও আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ইস্তফার ফলে মিরিকসহ সমগ্র দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে তৃণমূল কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ল।

    একদা জিএনএলএফ (GNLF)-এর দাপুটে নেতা লাল বাহাদুর রাই ২০১৭ সালে মিরিক পুরভোটের ঠিক আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সে সময় তাঁকে ‘চেয়ারম্যান প্রজেক্ট’ করেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিল ঘাসফুল শিবির। ফলও মিলেছিল হাতেনাতে। ৯ আসনের মিরিক পুরসভায় সেবার ৬টি আসন জিতে পাহাড়ের বুকে প্রথমবার খাতা খুলে পুরবোর্ড দখল করেছিল তৃণমূল। লাল বাহাদুর রাই হন মিরিকের পুরপ্রধান। এরপর শান্তা ছেত্রীকে সভাপতি ও লাল বাহাদুরকে চেয়ারম্যান করে পাহাড়ে মূল দলীয় সংগঠন সাজিয়েছিল তৃণমূল। ২০২২ সালে নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হলেও ভোট না করিয়ে লাল বাহাদুর রাইকেই প্রশাসক পদে বসিয়ে রেখেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। তৃণমূল সরকারে না থাকায় আর বিনাভোটে চেয়ার দখলে রাখা সম্ভব হবে না বোঝাই যাচ্ছিল।

    তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে, দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করে পাহাড়ের সংগঠনকে আবার চাঙ্গা করা হবে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লালবাহাদুর রাইয়ের মতো হেভিওয়েট নেতার প্রস্থান পাহাড়ের রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎকে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

    সোমবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের গোটা মিরিক মহকুমা কমিটি একযোগে দলত্যাগের ঘোষণা করল। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনেই তৃণমূলের জোটসঙ্গী অনীত থাপার ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’ (BGPM)-র ভরাডুবি এবং রাজ্যে বিজেপির সরকার আসার পরই পাহাড়ের ঘাসফুল শিবিরে এই মহাধস নামল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পর থেকেই পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাতে শুরু করেছে। তার ওপর সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনেই তৃণমূল-বিজেপিএম জোটের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। এই চরম ভরাডুবির পর সোমবার সকালে মিরিকে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়। সেখানেই চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর রাইয়ের পাশাপাশি দলের সমস্ত স্তরের নেতা-কর্মীরা একযোগে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। ফলে মিরিক মহকুমায় তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব এখন খাদের কিনারায়। তবে তাঁদের পরবর্তী গন্তব্য কী হবে বা তাঁরা কোনও দলে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি তাঁরা।

     
  • Link to this news (আজ তক)