এ মাসেই শেষ! ধর্মের ভিত্তিতে সমস্ত প্রকল্প বন্ধ, মিলবে না ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিত ভাতাও!
প্রতিদিন | ১৮ মে ২০২৬
ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা করলেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তিনি জানিয়েছেন, চলতি মাসে প্রকল্পের আওতায় সহায়তা মিললেও আগামী মাস থেকে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। এদিন অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ হবে। এই মাসে চলবে। পরের মাস থেকে এটা বন্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”
নির্বাচনের আগে ভাতা নয়, ভাতের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। সংকল্প পত্রে কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পদ্মব্রিগেড। সেই পথেই সরকার গঠনের ৯ দিনের মাথায় বিরাট ঘোষণা অগ্নিমিত্রার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক বড় ঘোষণা করেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী। জানিয়ে দেন, “ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ হবে।” ফলে মনে করা হচ্ছে, মমতা আমলে চালু ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিত ভাতাও বন্ধ হচ্ছে। বঙ্গে তৃণমূল জমানায় তোষণের রাজনীতিতে ভাতাকে ‘হাতিয়ার’ করায় সরব হয়েছিল বিজেপি। রাজ্যের অর্থনৈতিক শিরদাঁড়া ‘রেউরি’ সংস্কৃতিতে নুয়ে পড়েছে বলে সরব হয় তৎকালীন বিরোধী দল। এবার সেই মতোই সংস্কারমুখী পদক্ষেপ করে ধর্মের ভিত্তিতে ‘বৈষম্যমূলক’ সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করল সরকার।
পূর্বতন রাজ্য সরকারের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুরোহিত, ইমাম, মোয়াজ্জেমদের ১৫০০ টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হত। চলতি বছর মার্চেই ৫০০ টাকা ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিতদের ভাতা বাড়িয়ে মাসিক ২০০০ টাকা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে এই প্রকল্প ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে বারবার সরব হওয়া বিরোধী শিবির সরকারে আসতেই সেই সমস্ত ধর্ম ভিত্তিক প্রকল্প বন্ধ করা হল। ভাতায় ‘কল্পতরু’ সরকারের আমলে মাজা ভেঙেছিল বাংলার অর্থনীতির। রাজ্যের কোষাগারে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। সে অবস্থাতেও ‘মেলা-খেলা’র বরাদ্দে অর্থের কোনও কমতি যায়নি। বরং উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে পুজো অনুদানও। নতুন সরকারের আমলে এবার দুর্গাপুজোয় ক্লাবগুলির জন্য বরাদ্দ অনুদানও কি বন্ধ হতে চলেছে? কারণ ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে জনমুখীপ্রকল্পে গতি আনার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার অর্থ ভান্ডার চাঙ্গা করাও চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।