• সরকারি নির্দেশিকায় খাঁ খাঁ করছে শতাব্দীপ্রাচীন গরু হাট, মাথায় হাত ইলামবাজারের ব্যবসায়ীদের
    প্রতিদিন | ১৮ মে ২০২৬
  • একটা সময় শনিবারের ভোর হতেই জমে উঠত ইলামবাজার সুখবাজারের শতাব্দী প্রাচীন গরুর হাট। দূর-দুরান্ত থেকে ট্রাকে, ভ্যানে কিংবা পায়ে হেঁটে গরু নিয়ে আসতেন ব্যবসায়ীরা। হাট চত্বরে সারি সারি গরুর ডাক, দরদামের কোলাহল আর ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড় যেন ছিল এলাকার সাপ্তাহিক উৎসবের ছবি। কিন্তু এখন সেই চেনা দৃশ্য অতীত। রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কার্যত ফাঁকা ইলামবাজারের সুখবাজারের গরু হাট। সরকারি নির্দেশিকার পর জেলার গরুহাটগুলিতেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

    জেলার পুলিশ সুপার সূর্য প্রতাপ যাদব বলেন, “সরকারি নির্দেশিকা মেনে যাঁদের বৈধ কাগজপত্র আছে তাঁরা ব্যবসা করতে পারবেন। বাকিদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। সরকারের নির্দেশিকা মেনেই সমস্ত নজরদারি দেখে হাটগুলি পরিচালনা হবে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গরু হাট গুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।” স্থানীয়দের দাবি, পশু পরিবহণ, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংক্রান্ত কড়াকড়ি নির্দেশের পরেই আপাতত ব্যবসায়ীরা হাটে আসা বন্ধ করেছেন।

    প্রসঙ্গত, এই হাট থেকে মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে গোরু পাচারের অভিযোগে তদন্তে নেমেছিল সিবিআই ও ইডি। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এবার শতাব্দী প্রাচীন সেই হাট এবার সম্পূর্ণ বন্ধ। সামনেই কুরবানী বা ঈদুল আজহা। এই উৎসবে গরুর মাংসের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। চড়া দামে গোরু কেনাবাচা হয়। কিন্তু, দক্ষিণবঙ্গের সব থেকে বড় ইলামবাজারের সুখবাজার পশুহাট সম্পূর্ণ বন্ধ। ব্যবসায়ীদের দাবি, কোনওরকম অশান্তি এড়াতে আপাতত অলিখিত ভাবে শনিবারের এই হাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। যদিও, প্রাচীন এই পশুহাট অবৈধ নয়, বলছেন ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। ব্যবসায়ী শেখ মতিউর রহমান, শেখ হাসমত আলি, আবদুল করিম বলেন, “সামনে কুরবানী, এই সময় হাট বন্ধে খুব ক্ষতি সামনে পড়তে হল। এই হাট ১০০ বছরের পুরনো।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)