মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই কথা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে সপ্তম পে কমিশনে (7th Pay Commission) সিলমোহর দিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল (Agnimitra Paul)। যদিও ডিএ নিয়ে এদিনের বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে তা অ্যাজেন্ডায় রয়েছে বলেই জানান মন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সরকারি কর্মীরা।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে থেকে ডিএ ক্ষতে জর্জরিত ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও প্রত্যেক রাজ্য সরকারি কর্মীর কাছে এখনও পৌঁছয়নি ডিএ-র টাকা। তারই মাঝে ভোটপ্রচারের মঞ্চ থেকে অমিত শাহ-সহ পদ্মশিবিরের একাধিক নেতা-মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে সপ্তম পে কমিশন। তার ফলে বেতন পরিকাঠামোয় বদল আসবে।
গত ৪ মে প্রকাশিত ভোটের ফলাফল অনুযায়ী রাজ্য সরকারের পালাবদল হয়েছে। প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। গত ৯ মে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের উপস্থিতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী। তারই অংশ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের ৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বৈঠকে সপ্তম পে কমিশনে সায় দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। সেই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
সাধারণত ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্য পে কমিশন গঠন করে। রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রাজ্য মন্ত্রিসভা সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর দেওয়ার পর বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক নিয়েও চলছে জল্পনা। কারণ, পে কমিশনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সামঞ্জস্য রাখলে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থাকবে ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে। তার ফলে বর্তমানে যার বেসিক ১৮ হাজার টাকা, তা বেড়ে হতে পারে ৫২ হাজার থেকে ৫৬ হাজারের মধ্যে। ফলে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হওয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্য খুলল তা বলাই বাহুল্য।