এমনকী UAPA মামলাতেও জামিন দেওয়াই আইন, জেল ব্যতিক্রম। ফের মনে করাল সুপ্রিম কোর্ট। ওই কথা মনে করানোর পাশাপাশি নিজের দেওয়া রায় নিয়েই সোমবার আপত্তি তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এ দিন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া জানিয়েছেন, দিল্লির গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় (গুলফিশা ফতিমা বনাম কেন্দ্রীয় সরকার মামলা) UAPA-তে অভিযুক্ত উমর খালিদ ও সার্জিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ নিয়ে তাঁদের গুরুতর আপত্তি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে খালিদ ও সার্জিলের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল শীর্ষ আদালতের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ।
জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা জনৈক সৈয়দ ইফতিকার আনদ্রাবিকে মাদক ও সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে NIA। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে ইফতিকার জেলে বন্দি। সোমবার তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে উমর ও সার্জিলের জামিন খারিজ প্রসঙ্গে ওই পর্যবেক্ষণ করেছে বিচারপতি নাগারত্নার ডিভিশন বেঞ্চ।
কেএ নাজিব বনাম কেন্দ্রীয় সরকার মামলায় ২০২১ সালে ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্ট দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১০ সালে কেরালায় এক প্রফেসরের উপর হামলা হয়। কেএ নাজিবের বিরুদ্ধে UAPA-তে মামলা করে এনআইএ। পাঁচ বছর পলাতক ছিলেন নাজিব। ২০১৫ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরে দীর্ঘ ছয় বছর বিনা বিচারে জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। বন্দি থাকা অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন জানান তিনি। শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতি বেঞ্চ নাজিবের জামিন মঞ্জুর করে জানায়, যতই কঠিন ধারায় মামলা দায়ের হোক না কেন, অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, বিনা বিচারে দীর্ঘদিন কাউকে জেলে আটকে রাখা যায় না। কারণ, তা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
ইফতিকারের জামিন মঞ্জুরের পাশাপাশি উমর এবং সার্জিলের জামিন খারিজের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি নাগারত্নার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চে কেএ নাজিবের জামিন মঞ্জুরের রায় 'আইন' হিসেবেই বিবেচিত হবে। নিম্ন আদালত বা হাইকোর্টগুলিকেও ওই রায়কে মান্যতা দিতে হবে এই কারণে যে, সেই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। এমনকী, সুপ্রিম কোর্টের কোনও ডিভিশন বেঞ্চকেও তাকে মান্যতা দিতে হবে। কেননা, দুই সদস্যের চেয়ে তিন সদস্যের বেঞ্চ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন।