প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে থাকে ইতিহাস। ছোট হোক বা বড়— একটি জাদুঘর মানবসভ্যতার ঐতিহ্য বহন করে চলে। সংস্কৃতির সমৃদ্ধি এবং প্রাগৈতিহাসিক জিনিসের সংরক্ষণের তাগিদ বৃদ্ধিতে ১৯৭৭ সালের ১৮ মে তৈরি হয়েছিল ‘International Council of Museums (ICOM)’। সেই কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠার দিনকে গোটা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক মিউজি়য়াম দিবস পালিত হয়ে আসছে। একটি জাদুঘর তৈরির জন্য যে ইতিহাসকে খুঁজে দেখার ইচ্ছা ও অধ্যাবসায় প্রয়োজন– সেই উদাহরণ তৈরি করেছেন উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা তপন সেন।
ছোটবেলায় মামার হাত ধরে কলকাতা জাদুঘরে যেতেন তপন। সেই থেকেই ইতিহাসকে চেনা, জানার প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। প্রাচীন জিনিস সংগ্রহের আগ্রহ বাড়ে। তাঁর কথায়, ‘দেশ-বিদেশের যেখানেই বেড়াতে গিয়েছি, সেখান থেকেই সেই দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জিনিস সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছি।’ ধীরে ধীরে জিনিসপত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আর এর পরেই তপন সেনের মাথায় সংগ্রহশালা তৈরির ভাবনা আসে। নিজের বাসভবনের দোতলায় গড়ে তোলেন এই ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা। তাঁর সংগ্রহশালাটি যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র থেকে পাল যুগের পাথরের মূর্তি, প্রাচীন মুদ্রা থেকে নানা ধরনের মুখোশ, কী নেই সেখানে! নিজের এই সংগ্রহশালার নাম রেখেছেন ‘বীরশিবপুর লোকশিল্প মিউজিয়াম’। অবসরপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান তপন সেনের এই সংগ্রহশালা ইতিহাসপ্রেমী থেকে সাধারণ মানুষের কাছে জানা-অজানার ভাণ্ডার। তিব্বত ও লাদাখের বাদ্যযন্ত্র ও মুখোশ, লাহুল স্পিতির একটি বৌদ্ধস্তূপ থেকে সংগ্রহ করে আনা প্রাচীন সিঙ্গা ও তিব্বতী মুখোশ। রয়েছে অমূল্য ‘তিব্বতি থানকা’। চিন দেশ থেকে সংগ্রহ করে আনা প্রাচীন লেখার উপাদান 'প্যাপিরাস' (Papyrus)।
প্রাচীন বাংলার বহু অপূর্ব নিদর্শনের পাশাপাশি রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় ও প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রের এক বৃহৎ সংগ্রহ। এলাকার মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা মাঝে মধ্যেই ভিড় জমায় বীরশিবপুরের এই সংগ্রহশালায়।