• ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টিতে মুর্শিদাবাদে বজ্রপাতে মৃত ৬, রানাঘাটে ব্যাহত ট্রেন পরিষেবা
    এই সময় | ১৯ মে ২০২৬
  • একবেলার ঝড়-বৃষ্টিতে গোটা মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রপাতে মারা গেলেন ৬ জন। অন্যদিকে শিয়ালদহ-রানাঘাট শাখায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাহত হলো ট্রেন পরিষেবা।

    সোমবার বিকেলে আচমকা আবহাওয়া খারাপ হয় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। হঠাৎ করে শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি, পরপর বজ্রপাত হতে থাকে। ওই ঘটনায় মুর্শিদাবাদের ৫টি জায়গায় মোট ৬ জন মারা গিয়েছেন। অন্যদিকে শিমুরালিতে ট্রেনের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছে ট্রেন চলাচলে।

    সূত্রের খবর, শিমুরালিতে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় রানাঘাট লাইনে বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেন। পরে আপ লাইনে একটু জট কাটে, শুরু হয় ট্রেন চলাচল। কিন্তু ডাউন লাইনে ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে

    মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বাসিন্দা বিলকিস বেগম (৪৬) বাড়ির কাছেই থাকা মাঠের পাশ থেকে গবাদিপশু ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথেই তীব্র বজ্রাঘাতে মারা যান তিনি। মৃতের স্বামী শেরআলি শেখ জানান, বিলকিস বিবি মাঠের মধ্যেই অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    নবগ্রাম দাসপাড়া এলাকাতেও বজ্রপাতের জেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃতের নাম রাজেশ হাঁসদা (২৭)। তিনি ঝাড়খণ্ডের পাকুড় এলাকার বাসিন্দা। নবগ্রামে এসেছিলেন চাষের কাজ করতে। মাঠে কাজ করার সময়েই বজ্রাঘাতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। অন্য চাষিরা ছুটে এসে রাজেশকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। হরিহরপাড়া থানা এলাকাতেও মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। জখম হয়েছে দুই জন। হরিহরপাড়ার খিদিরপুর বালুর মাঠপাড়া এলাকার ঘটনা। মৃতের নাম রায়েচ সেখ (৬১)। অন্যদিকে নওদার ঝাউবনা এলাকায় বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে বিশ্বনাথ মণ্ডল (৭৪)-এর। ওই বৃদ্ধ পাট খেতে নিড়ানির কাজ করছিলেন। সেই সময়ে বজ্রপাতে গুরুতর জখম হন। আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কান্দিতে বজ্রপাতে মারা গিয়েছে ২ জন। মৃত শফিকুল শেখের বয়স ২০, কান্দি থানার হিজল রানিপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যজন নব কুমার মণ্ডল (৬৫), তিনি কান্দি থানার বালুট গ্রামের বাসিন্দা।

    এ দিন ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মুর্শিদাবাদের নানা জায়গায়। জিয়াগঞ্জ ফুলতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে সদরঘাট যাওয়ার মুখ্য রাস্তায় একটি কয়েকশো বছরের পুরনো বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে। রাস্তার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি দোকান এবং ঠিক নিচে অবস্থিত একটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতা দেখায় জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভা। পুরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত জেসিবি (JCB) গাড়ি এবং আধুনিক মোটরচালিত কাটিং মেশিন নিয়ে এসে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। গাছটি কেটে সরিয়ে দ্রুততার সঙ্গে যানজটমুক্ত করা হয় এলাকা।

  • Link to this news (এই সময়)