আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার পাহাড়েও বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক নেতৃত্বের দলত্যাগে কার্যত চাপে পড়েছে পাহাড়ের ঘাসফুল শিবির।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে দার্জিলিং ও কালিম্পং পার্বত্য শাখার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন লাল বাহাদুর রাই। ইতিমধ্যেই নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন দার্জিলিং জেলা হিল তৃণমূল-এর সভাপতি শান্তা ছেত্রী-কে।
শুধু চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোই নয়, এদিন তৃণমূলের গোটা মিরিক মহকুমা কমিটিও একযোগে দলত্যাগের ঘোষণা করেছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনেই তৃণমূলের জোটসঙ্গী ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা-র ভরাডুবি এবং রাজ্যে বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাহাড়ে তৃণমূলের সংগঠন দুর্বল হতে শুরু করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। লাল বাহাদুর রাইয়ের পদত্যাগ সেই ধসকে আরও স্পষ্ট করল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, পাহাড়ে এখন কার্যত অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল। প্রসঙ্গত, একসময় গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট-এর দাপুটে নেতা ছিলেন লাল বাহাদুর রাই। ২০১৭ সালে মিরিক পুরভোটের আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁকে সামনে রেখেই পাহাড়ে সংগঠন শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেয় ঘাসফুল শিবির।
সেই নির্বাচনে ৯ আসনের মিরিক পুরসভায় ৬টি আসন জিতে প্রথমবার পাহাড়ে পুরবোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল। এরপর লাল বাহাদুর রাই মিরিক পুরসভার পুরপ্রধান হন।
পরবর্তী সময়ে পাহাড়ে দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে শান্তা ছেত্রীকে সভাপতি এবং লাল বাহাদুর রাইকে চেয়ারম্যান করে সংগঠন সাজানো হয়েছিল।
গত ২০২২ সালে নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভোট না করিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকার প্রশাসকের দায়িত্বে রেখেছিল লাল বাহাদুর রাইকেই। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর পদত্যাগ পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।