• ওবিসি তালিকা বাতিলে সমস্যায় পড়তে পারে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া থেকে চাকরিপ্রার্থী
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ মে ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভা একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। সোমবার দ্বিতীয় মন্ত্রীসভার বৈঠক বসে নবান্নে। সেখানে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) তালিকা নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ওবিসি তালিকা সম্পূর্ণ পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

    উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ৬৬টি জনগোষ্ঠী সংরক্ষণে আওতায় আনা হয়েছিল।  যা ছিল ৭ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের হাত ধরে আরও ১১৩টি অনগ্রসর শ্রেণিকে তালিকাভুক্ত করা হয়। প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ায় মমতার সরকার। সব মিলিয়ে ১৭ শতাংশ সংরক্ষণের আওয়াত আনা হয়। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা হয়।

    হাইকোর্টের রায়ে এই ১১৩টি অনগ্রসর জাতিকে বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। পুনরায় বিবেচনা করার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মোট ১৪০টি অনগ্রসর শ্রেণিকে তালিকাভুক্ত করে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। কিন্তু ২০২৪ সালে এর উপরও স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বর্তমান বিজেপি সরকার হাইকোর্টের এই রায়কেই মান্যতা দিয়েছে। শুধুমাত্র  বামফ্রন্ট আমলের ৬৬ অনগ্রসর শ্রেণিকেই এই সংরক্ষণের আওতায় ধরা হবে।

    ২০১২ সালে ওবিসি সংরক্ষণ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলাকারীদের আইনজীবী জানান,  ২০১০ সালে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্টের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে ‘অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি’ তৈরি করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। ওই শ্রেণির নাম দেওয়া হয় ‘ওবিসি-এ’।

    ২০১১ সালে বাংলায় সরকার গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে ওই শ্রেণি সংক্রান্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট ছাড়াই একটি তালিকা তৈরি করে এবং আইন প্রণয়ন করে। তবে সোমবার শুভেন্দুর মন্ত্রীসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে বাতিল হবে লক্ষ লক্ষ ওবিসি সংশাপত্র। যার প্রভাব পড়বে পড়ুয়া থেকে চাকরীপ্রার্থীদের উপর। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)