জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নয়, পুষ্পাকে রক্ষাকবচ হাইকোর্টের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ মে ২০২৬
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি সুগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন। আগামী ২৪ মে পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলায় এই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা কার্যকর থাকবে।
হাইকোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, ফলতা থানায় জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে প্রথম এফআইআর দায়ের হয়েছিল গত ৫ মে। পরে ১০ মে আরও তিনটি এবং ১৫ মে একটি নতুন মামলা রুজু হয়। ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোটে কারচুপি ও অশান্তি তৈরির মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলাগুলিকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন জাহাঙ্গির। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ভোটের আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি মামলা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও জানতে চেয়েছিলেন তিনি।
আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, সমস্ত এফআইআরের প্রতিলিপি সাত দিনের মধ্যে জাহাঙ্গিরের হাতে তুলে দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৬ মে অবকাশকালীন বেঞ্চে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে জাহাঙ্গির খান একটি পরিচিত ও বিতর্কিত নাম হয়ে উঠেছেন। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে তিনি পরিচিত। এবারের ভোটে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সংঘাতও যথেষ্ট চর্চায় ছিল। উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয়পালকে অনেকে ‘সিংহম’ নামে ডাকেন। সেই প্রসঙ্গেই জাহাঙ্গিরের মন্তব্য— ‘উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা, ঝুঁকেগা নহি’— রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছিল।
অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, ফলতার একাধিক বুথে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হয়নি। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকায় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বে সন্ত্রাস, তোলাবাজি ও বুথ দখলের রাজনীতি চলত। যদিও জাহাঙ্গির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখেই মানুষ তাঁকে সমর্থন করবে।