জলজীবন মিশন প্রকল্পে ৩৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর মুখ্যমন্ত্রীর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ মে ২০২৬
বাংলায় এখনও প্রতিটি ঘরে পৌছয়নি নলবাহিত পানীয় জল। কারণ নরেন্দ্র মোদী সরকারের অন্যতম স্বপ্নের প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’ বাংলায় সেভাবে বাস্তবায়িত করেনি তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। সেই প্রকল্প নিয়েই সোমবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের মন্ত্রী ও আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই সই হল ৩৯ হাজার কোটি টাকার এক ঐতিহাসিক চুক্তি। ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্প সফলভাবে রূপায়নের লক্ষ্যে এই মৌ স্বাক্ষর করেছে রাজ্য সরকার।
সোমবার কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ৩৯ হাজার কোটি টাকার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে জল জীবন মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় সহায়তা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী সরকার। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি প্রথমবার সরকার গঠনের পর একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তিকরণ হচ্ছে বাংলার। এবার সেই তালিকায় জুড়ল জলজীবন মিশন প্রকল্প।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলার মানুষ এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের উপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার মর্যাদা দিতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর হল।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৫ বছরে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে ২৯ হাজার কোটি টাকা দিলেও প্রকল্পের কাজের কোনও অগ্রগতি হয়নি। বহু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই কাজ সীমাবদ্ধ ছিল। তাঁর অভিযোগ, মাঝখানে শুধু এই প্রকল্পের নাম বদলে ‘জল স্বপ্ন’ করা হয়েছিল। যদিও ভারত সরকারের কোনও প্রকল্পের নাম বদল করার ক্ষমতা কোনও রাজ্য সরকারের নেই।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকার নতুন চুক্তির ফলে প্রতিটি বাড়িতে পাইপের মাধ্যমে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত শেষ করা যাবে। পাশাপাশি রাজ্যের সেচ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের সাহায্যে চেয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর সাফ কথা, ‘রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সহযোগিতা ছাড়া কোনও বড় মাপের প্রকল্প বাস্তবায়িত করা কঠিন। কারণ রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত খারাপ।’
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে ‘জল জীবন মিশন- ২’ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত খরচ প্রায় ১ লক্ষ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ চলবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারে নলের জল পৌঁছত। বর্তমানে সেই হার বেড়ে ৫৬ শতাংশ হয়েছে। যদিও বাংলার স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পানীয় জল পরিষেবার হার এখনও জাতীয় গড়ের নিচে রয়েছে। গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে বিশেষ প্লান্ট তৈরির জন্য রাজ্যকে দ্রুত জমি দেওয়ার কথা বলেন পাতিল।
এদিন জল সংরক্ষণ এবং জনঅংশগ্রহণের উপরেও জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পাতিল জানান, প্রধানমন্ত্রী ‘জল সঞ্চয় জনঅংশগ্রহণ’ কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে ১ কোটি জল সংরক্ষণ কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮৯ লক্ষ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মনরেগা তহবিলের বড় অংশ বৃষ্টির জল সংরক্ষণে খরচ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এই প্রকল্প রূপায়নে জেলা প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করতে খুব শীঘ্রই জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন বলেও কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী জানান। তাঁর দাবি, এই চুক্তির ১৯টি শর্ত রয়েছে এবং সেগুলি কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভি সোমান্না, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, কেন্দ্রীয় পানীয় জল ও স্বচ্ছতা বিভাগের সচিব অশোক মিনা, পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল রেসিডেন্ট কমিশনার দুষ্মন্ত নারিয়ালা-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরা।