• বিয়ের ছ’মাসেই মৃত্যু প্রাক্তন ‘মিস পুণে’র, ‘জীবন নরক হয়ে গেছে’, মা’কে মেসেজের পরদিনই শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত দেহ!
    প্রতিদিন | ১৯ মে ২০২৬
  • “এখানে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে।” মোবাইলে মাকে মেসেজ পাঠানোর পরদিন ভোপালে শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল মাস পাঁচেক আগে বিয়ে হওয়া তিশা শর্মার (Twisha Sharma)। ৩৩ বছরের উচ্চশিক্ষিত তরুণী। এমবিএ। শুধু তাই নয়, ডাকসাইটে সুন্দরী তিশা প্রাক্তন ‘মিস পুণে। বিয়েও করেছিলেন ‘হাই প্রোফাইল’ পরিবারে। স্বামী সম্রাট সিং আইনজীবী। শাশুড়ি গিরিবালা সিং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। গত ১২ মে কাটারা হিলসের শ্বশুরবাড়িতে মৃত্যু হয় তিশার। স্বামী-শাশুড়ি আত্মহত্যার কথা বললেও মানতে নারাজ তরুণীর পরিবার। তিশাকে কি খুন করা হয়েছে?

    প্রথম বিবিএ, পরে এমবিএ করার পর মুম্বই এবং দিল্লির দু’টি সংস্থায় চাকরিও করেন তিশা। এর মধ্যেই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সাফল্য আসে। ‘মিস পুণে’ খেতাব পান তিনি। একটি তেলেগু ছবিতে অভিনয় করেন। যোগা শিখে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় শুরু করেছিলেন। এই সবের মধ্যেই ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপ সূত্রে তাঁর আলাপ হয় পেশায় আইনজীবী সম্রাট সিংয়ের সঙ্গে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁরা বিয়ে করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি।

    তিশার পরিবারের অভিযোগ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণীকে কার্যত গৃহবন্দি করে ফেলে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তিনি ভীষণভাবে একাকী বোধ করছিলেন। মাকে লেখা একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় সেকথাই স্পষ্ট হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল একটি মেসেজে মাকে তিশা লেখেন, “আমাকে কেন এখানে পাঠিয়েছ। ও তো এখানে আমার সঙ্গে কথাই বলে না।” ক’দিন পরে লেখে— “আমার জীবন নরক হয়ে গিয়েছে মা।” এরপর ৭ মে মাকে লেখা আরও একটি মেসেজে তিশা লেখেন, “বাড়িতে বসে থাকার কারণে আমি দুশ্চিন্তায় আছি। আমি জীবনে কিছু করতে চাই।” বিয়ে নিয়ে এক বান্ধবীকে ইঙ্গিতবাহী পরামর্শ দেন তিশা। তিনি লেখেন, “কেবল বিয়ে করবি বলেই বিয়ে করিস না। ভেবে চিন্তে এগোস।”

    তিশা শর্মার মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে। ভোপাল এইমসের ময়নাতদন্তের রিপোর্টও তাই বলছে। যদিও তিশার বাবা নবনিধি শর্মার দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে অন্য প্রমাণের মিল নেই। পরিবারের বক্তব্য প্রভাবশালী আইনজীবী ও বিচারপতির পরিবার নেপথ্যে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। নতুন করে দিল্লি এইমসে ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাড়ি ঘেরাও করে তিশার মৃত্যুর ন্যায় বিচার চায় পরিবার।

    প্রাথমিকভাবে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করে স্বামী সম্রাট সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতার পরিবারের প্রভাবশালী দাবিকে প্রতিষ্ঠা দিয়ে ইতিমধ্যে আগাম জামিন পেয়ে গিয়েছে পলাতক মা-ছেলে। তাঁদের গ্রেপ্তারির লক্ষ্যে পুরস্কার ঘোষণার কথা ভাবছে পুলিশ। ভোপালের পুলিশকর্তা রাজনীশ কাশ্য়প কৌল বক্তব্য, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) সমস্ত প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ করছে। পুলিশ অভিযুক্তদের খুঁজছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)