• ভোটে পর্যূদস্ত, মিরিক মহকুমা কমিটির সদস্যদের নিয়ে দল ছাড়লেন চেয়ারম্যান! পাহাড়ে সাফ তৃণমূল?
    প্রতিদিন | ১৯ মে ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটে পর্যূদস্ত তৃণমূল কংগ্রেস। পাহাড়েও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ফলাফল প্রকাশের দুই সপ্তাহের মধ্যে পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে দল ছাড়ার হিরিক দেখা গেল! সোমবার রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে দল ছাড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং পার্বত্য শাখার চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর রাই। তাঁর সঙ্গে দলত্যাগ করলেন তৃণমূলের গোটা মিরিক মহকুমা কমিটির সদস্যরাও।

    বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনে তৃণমূলের জোটসঙ্গী অনীত থাপার ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’-র ভরাডুবি ঘটে। এরপর থেকেই পাহাড় তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন শুরু হয়। সোমবার সেটা প্রকাশ্যে আসে। পাহাড় থেকে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয় তৃণমূল। লাল বাহাদুর রাই এক সময় জিএনএলএফ-এর দাপুটে নেতা ছিলেন। ২০১৭ সালে মিরিক পুরভোটের আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ওই সময় তাঁকে সামনে রেখে পুরসভা ভোটের লড়াইয়ে নামে ঘাসফুল শিবির। নয় আসনের মিরিক পুরসভায় ছয়টি জিতে পাহাড়ে প্রথম কোনও পুরবোর্ড দখল করে তৃণমূল। লাল বাহাদুর রাই পুরপ্রধান হন।

    এরপর শান্তা ছেত্রীকে সভাপতি ও লাল বাহাদুরকে চেয়ারম্যান করে পাহাড়ে মূল তৃণমূল ঘর সাজাতে শুরু করে। ২০২২ সালে নির্বাচিত মিরিক পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। অভিযোগ, নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে তৎকালীন তৃণমূল সরকার লাল বাহাদুর রাইকে প্রশাসক পদে বসিয়ে রাখে।কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টাতে শুরু করে। তৃণমূলের জোটসঙ্গী অনীত থাপার ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’ ভোটে হেরে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে! তখন সেখানকার তৃণমূল নেতারাও রণেভঙ্গ দিয়ে বিকল্প পথের সন্ধান শুরু করেন! সোমবার মিরিকে জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর রাই-সহ দলের সমস্ত স্তরের নেতাকর্মীরা একযোগে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)