“ভবানীপুরে তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়া আর চলবে না। দুর্নীতিগ্রস্তদের ঠিকানা এখন জেল।” ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এদিনই প্রথম ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখান থেকে ভবানীপুরের বাসিন্দাদের অভয় দিলেন। তাঁকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জেতানোর জন্য ভবানীপুরের বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ভবানীপুরে এসে তাঁর পুরনো বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের অনুভব পাচ্ছেন, সেই কথাও মঞ্চ থেকে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার ওই কেন্দ্রেই হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে জিতলেও ভবানীপুর থেকেই তিনি বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় শপথবাক্য পাঠ করেছেন। নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি ছেড়ে দিইয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ভবানীপুরে এদিন প্রথম সভা করলেন শুভেন্দু। সোমবার সন্ধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটের মঞ্চ থেকে ভবানীপুরের মানুষদের তাঁকে জেতানোর জন্য ধন্যবাদ, কুর্নিশ জানিয়েছেন। ভবানীপুরে তৃণমূল আমলে তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেই বিষয়ে এবার বার্তা দিলেন শুভেন্দু। বাসিন্দাদের ভরসা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “তোলাবাজি, কাটমানি, গুন্ডাভাতা ভবানীপুরে আর চলবে না। বাংলায় এখন ভয় আউট, ভরসা ইন।”
শুধু তাই নয়, ভবানীপুরের বাসিন্দারা কোনও সমস্যায় পড়লে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের কথাও বলেন। শুভেন্দু এদিন বলেন, “আপনাদের একটা নম্বর দেব, অসুবিধা হলেই ফোন করবেন।” ইমেল আইডি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ভবানীপুর এলাকায় বিধায়কের সাতটি অফিস থাকবে আগামী দিনে। সেখানেও বাসিন্দারা তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। ভবানীপুরের মানুষ তাঁর উপর ভরসা রেখেছেন, তাঁকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতিয়েছেন। সেজন্য একাধিকবার এদিন মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বাসিন্দাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নিজেকে তিনি সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুভেন্দু এদিন বলেন, “আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব। একটু সময় দিন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব।”
এদিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়কেও কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, মিত্র ইনস্টিটিউশনের চারটি বুথেই হেরেছেন মমতা। প্রত্যেকটিতেই বিজেপি লিড পেয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “যে নিজের বুথেই জিততে পারেন না, তাঁকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলার মানুষ। আপনার রাজনৈতিক দিন শেষ। টাটা, বাই বাই, খতম, পুরা খতম করে দিয়েছে।” মমতার রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের মানুষ তাঁকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন। সেই কটাক্ষও করেছেন শুভেন্দু।